ট্রামলাইন।
জীবনানন্দের আকস্মিত প্রয়াণের সাথে এ শব্দ জড়িয়ে। আবার, কলকাতার মূল স্নায়ুও তো সেই, ট্রামলাইনই… আজ যা প্রায় আমাদের বুড়ো হয়ে যাওয়া বাবা-মা’দের মতই খানিক অবহেলায়। সবাই চাইছে তুলে দিতে। অথচ গত ১৫ বছর ধরে ট্রামলাইন কাগজ চলেছে তো চলেছেই নানাভাবে, কেউ তুলে দিতে পারেনি! নবারুণ থেকে স্মরণজিত, শ্রীজাত থেকে অনিন্দ্য, শিলাজিত থেকে সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, হিরণ মিত্র, সুমন মুখোপাধ্যায় – কে না লিখেছে এতকাল! এবং তখন যারা তরুণ ছিলেন, আজ প্রতিষ্ঠিত যেমন জয়রাজ বা অনিরুদ্ধ, সকলেই লিখেছেন ট্রামলাইনে, কখনও না কখনও।
গত বছর থেকে আরও কেতায় প্রকাশিত হচ্ছে ট্রামলাইন। অঞ্জন দত্ত, ব্রাত্য বসু, সুধীর মিশ্র, কিউ, রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়দের পাশেই রয়েছেন এ শহরের তরুণ তুর্কি র্যাপার থেকে আজকের ব্লগার ভ্লহার সুইগি ডেলিভারির মানুষটিও। ট্রামলাইনে জায়গা করে নিয়েছেন সবাই। নিচ্ছেন ও নেবেনও আরও।
এগিয়ে চলেছে ট্রামলাইন। এই উচ্ছেদের দিনকালেও তাকে কিছুতে উপড়োনো যাচ্ছে না। কারণ ঘটাংটট শব্দটা আসলে ধমনীর বিপ বিপ, নিয়তির মত বেজেই চলেছে।
বাকিটা আপনাদের ওপর। পাশে দাঁড়ান, বসে পড়ুন। ট্রাম তো এই শহরেরই প্রতিরূপ, যতই মনে হোক শেষের মুখে, কলকাতা কলকাতার মতোই ঠিক চলিতে থাকে। চলবে ট্রামলাইনও, ঠিক এভাবেই।