দেবর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়

রায়বাড়িতে রাখা ছিল বাঙালির শৈশব। আজও তাই পড়ন্ত বিকেলে গড়পারের রাস্তা পেরোনোর সময় প্রাচীন রায়বাড়িটির দিকে তাকালে শুনতে পাই ছাপাখানার শব্দ-সহ বাঙালির রেনেসাঁসের পদধ্বনি। গড়পারের এই বাড়িটি নিজে হাতে ছক কেটে বানিয়েছিলেন উপেন্দ্রকিশোর। বাড়িটির সামনে বড় বড় হরফে লেখা থাকত ‘ইউ রায় এন্ড সন্স’। গেট দিয়ে ঢুকে দারোয়ান হনুমান মিসিরের ঘর পেরিয়েই সেই ছাপাখানায় ঢোকার দরজা। এক তলার সামনের দিকেই ছাপাখানা। একদিকে মূক ও বধিরদের স্কুল আর অন্যদিকে এথেনিয়াম ইন্সটিটিউশান। সেখান থেকে দুপুরে ক্লাসে পড়ানোর বা স্যারেদের বকাবকির শব্দ ভেসে আসত। রায় বাড়িটির তিন তলায় ছিল ছাত আর তার একপাশে উপেন্দ্রকিশোরের কাজের ঘর। সেখানে বসেই ছবি আঁকতেন, সন্দেশ পত্রিকা প্রকাশ করতেন, সংগীত করতেন উপেন্দ্রকিশোর।
সত্যজিত রায় ‘যখন ছোট ছিলাম’এ এভাবেই বর্ণনা দিয়েছিলেন রায়বাড়ির। লীলা মজুমদার ইউ রায় এন্ড সন্সের ছাপাখানা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘এই ছাপাখানার বিশেষত্ব হল এখানে হাফটোন ব্লক প্রিন্টিংয়ের কাজ হত। ভারতবর্ষে তখন আর কেউ এ বিষয়ে জানত না। উপেন্দ্রকিশোরের প্রথম বইয়ের নাম ‘ছেলেদের রামায়ণ’।’
ছাপাখানা থেকে পরপর বই প্রকাশ করছেন উপেন্দ্রকিশোর। ইলিয়াড, ওডিসি, পুরাণের গল্প, বেতাল পঞ্চবিংশতি, বত্রিশ সিংহাসন, কথা সরিতসাগর। বইগুলো ডাঁই করে রাখা থাকত দোতলার একটা ঘরে। সন্দেশ পত্রিকাতে এইসব লেখা বেরিয়েছে আগেই। বিলেতে বইছাপার বিষয়ে জানার পরেই বিখ্যাত পত্রিকা পেনরোজ এনুয়ালে জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ লিখতে লাগলেন উপেন্দ্রকিশোর ইংরেজি ভাষায়। ক্রমশ বিলিতি নিয়মে হাফটোনে ছাপার আরও উন্নতি করলেন তিনি।
উপেন্দ্রকিশোর গম্ভীর প্রবন্ধ আর ছোটদের জন্য লেখার পাশাপাশি ‘কেনারাম বেচারাম’, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’র মত মজার নাটকও লিখতেন সমানতালে। সন্দেশের প্রথম প্রকাশের দিনের কথা লিখতে গিয়ে লীলা মজুমদার জানাচ্ছেন, ‘১৯১৩ সালে একদিন সন্ধেবেলায় “সন্দেশ” পত্রিকার প্রথম সংখ্যাটি হাতে করে উপেন্দ্রকিশোর ২২ নম্বর সুকিয়া স্ট্রিটের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে বসবার ঘরের দরজার কাছে দাঁড়ালেন। অমনি ঘরময় একটা আনন্দের সাড়া পড়ে গেল।’ সুকুমার রায় মারা যাবার দু বছর পর পর্যন্তও রঙিন সন্দেশ ছাপা হয়েছে। সারি সারি কম্পোজিটাররা খোপ কেটে হরফ বিন্যাস করতেন সন্দেশের ঘরে।
সন্দেশ পত্রিকা সম্পর্কে লীলা মজুমদার লিখছেন, ‘মজা হচ্ছে, কেউ জোর করে লিখতেন না, কাউকে পেড়াপিড়ি করেও লেখানো হত না, সবাই লিখতেন মনের আনন্দে । আস্তে আস্তে দেখা গেল যে যার নিজের বিষয়টি বেছে নিয়ে, সে বিষয়ে লিখে লিখে এমনই হাত পাকাচ্ছে যে লেখাগুলি হয়ে উঠছে অদ্বিতীয়।… কি না থাকত সন্দেশে, পুরাত্ত্বের সঙ্গে নতুন আবিষ্কার, জীবনী, ভ্রমণ কাহিনী, পৌরাণিক গল্প, দেশ বিদেশের নাটক-কবিতা-গান-গল্প-হাসিতামাশা, ধাঁধাঁ কিছুই বাদ যেত না।’
গড়পাড়ের বাড়ির এক তলায় থাকতেন সত্যজিতের ধনদাদু কুলদারঞ্জন। তিনি মুগুর ভাঁজেতেন। কেউ মারা গেলে তাঁর ছবি এনলার্জ করতেন তিনি। পুরাণের গল্পও খুব করতেন তিনি প্রায়ই ছোট সত্যজিতকে। সন্দেশের জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে উপেন্দ্রকিশোর-সুকুমারের সাথে কুলদারঞ্জনের নামও পরিচিতি পেল। তাঁর ‘বেতালপঞ্চবিংশতি’ আর ‘বত্রিশ সিংহাসনে’র গল্প, ‘পুরাণের গল্প’ বা ইংরেজি থেকে তাঁর অনুবাদের বইগুলি ‘রবিন হুড’, আশ্চর্য দ্বীপ’, ‘শার্লক হোমসের’ বিচিত্র কীর্তি কাহিনী, ‘বাস্কারভিলের কুক্কুর’ এ সব বই অনুবাদ হলেও বাংলা শিশুসাহিত্যে চিরকালীন এদের স্থান। পাশাপাশি, ক্রিকেটেও কুলদারঞ্জন সাহেবদের টক্কর দেন এককালে। জাঁদরেল সাহেব-টিম ক্যালকাটার বিরুদ্ধে বাঙালি টিম টাউন ক্লাবের হয়ে তিনি একবার নিরানুব্বইয়ের গাঁটে আটকে কীভাবে সেঞ্চুরি করেন, সে গল্প প্রায়ই সত্যজিৎকে বলতেন তিনি।
উপেন্দ্রকিশোরের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দু ভাই ছাড়া সকলেই ব্রাহ্ম হয়েছেন। সারদারঞ্জন আর মুক্তিরঞ্জন ছিলেন বড় ও সেজো ভাই। ওদের বাড়ির বৌদের শাড়ির ধরণ, সিঁদুর পড়া, পুরুষদের হাতের মাদুলি আলাদা।
সারদারঞ্জনের রায়ের নামের সাথে জড়িয়ে আছে ক্রিকেটের নামও। এ দেশে ক্রিকেট খেলার প্রচলন করেন তিনি। তাঁর আগে পর্যন্ত বাঙালি মাঠে নামাকে গোল্লায় যাওয়াই মনে করত। কিন্তু রাশভারী এই মানুষটি সে ধারণা বদলে দিলেন। অন্যদিকে, ওদের বাড়িতে পুজো হত ঘন্টা বাজিয়ে সশব্দে। শ্রাদ্ধ বাসরে উপাসনার রেওয়াজ এ বাড়ির। তখন বসার ঘরে সজনি বিছিয়ে দেওয়া হত। উপাসনা হত গানের মধ্যে দিয়েই, সংস্কৃত স্তোত্র আর বাংলা মন্ত্র বলে। হিন্দুদের মত দুর্গা বা কালীপুজো যে জাঁকজমক তা ব্রাহ্মদের পুজোয় নেই। কালীপুজোয় বাজি পোড়াতো রায়বাড়ির ছোটরা। চলত নানা মজাও। তুবড়ি-ফানুস-চিনেপটকা-ফুলঝুরি সবই ফাটানো হত। মাঘোতসব হোক বা পুজো একটা পিকনিক যেন লেগেই আছে বাড়িজুড়ে, উপাসনার পর খিচুড়ি খাওয়া ইত্যাদি সবেই মজা ছোটদের।
একশো নম্বর গড়পারের তিন তলা বাড়িটিতে ১৯১৪ সালে সপরিবারে উঠে এলেন উপেন্দ্রকিশোর। ক্রমে তিনি সন্দেশের ভার দিলেন সুকুমার, সুবিনয়ের উপর।
এই তিন তলার দক্ষিণেই থাকতেন সত্যজিতের মেজকাকা বা কাকামণি সুবিনয় রায়। সুকুমার রায় মারা যাবার পর সন্দেশ পত্রিকার দায়িত্ব তিনিই সামলেছেন। এখানেই গল্প লিখলেন লীলা মজুমদার। নিজের গল্পের সাথে ছবিও আঁকলেন তিনি পরে। জার্মানি থেকে নানা রকম কাগজের নমুনার বই আসে তাঁর কাছে। সে কাগজ খসখসে, চকচকে, এবড়ো খেবড়ো। গড়পারের তিন তলার আরেকটা ঘরেই থাকেন সত্যজিতের ছোট কাকা সুবিমল রায়। বাড়িতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ভাত খেতেন তিনি। কারণ, তাঁর বিশ্বাস, নিয়ম করে প্রতিটা গ্রাম বত্রিশ বার না চেবালে ঠিক হজম হয় না।
উপেন্দ্রকিশোরের বড় মেয়ে সুখলতা রাওয়ের হাত ধরেই বাঙালি ছেলেমেয়েরা দেশ-বিদেশের রূপকথা-উপকথা পড়ে বড় হয়েছে। সেগুলি সংগ্রহ করে সহজ বাংলায় লিখেছেন সুখলতা। তেলরঙে ছবি আঁকার পাশাপাশি ছোটদের জন্য ‘নিজে পড়’, ‘নিজে শেখ’ ইত্যাদি বই লিখেছেন তিনি। উপেন্দ্রকিশোরের দ্বিতীয় কন্যা পুণ্যলতা চক্রবর্তীর বিখ্যাত বই ‘ছেলেবেলার দিনগুলি’। সুখলতার মত অনুবাদ নয়, বরং পুণ্যলতার গদ্যে উপেন্দ্রকিশোর ও যোগীন্দ্রনাথের স্নেহছায়ায় বেড়ে ওঠার রসদ মনের গভীরের কথা, যেখানে উনিশ শতকের শেষ ক’টি বছর ও বিশ শতকের গোড়ার বছরগুলোর অসামান্য বর্ণনা ধরা আছে।
সুকুমার রায় নি:সন্দেহে এ বাড়ির এক আশ্চর্য প্রতিভা। উপেন্দ্রকিশোরের জ্যেষ্ঠপুত্র সুকুমার। তিন পুরুষের মধ্যে বলিষ্ঠ এই প্রতিভা মাত্র ৩৬ বছরেই প্রয়াত হলেন। নিজের একমাত্র আবোল তাবোলের ডামি কপিটি ছাড়া নিজের কোনও রচনাকেই বই হয়ে বেরতে দেখে যাননি তিনি।
লীলা মজুমদারের লেখায় তাঁকে ঘিরে শৈশবের নানা গল্পগাছা পাই। তিনি লিখছেন, ‘মাঝে মাঝে বিকেলে ছাদে উঠে বড়রা দেখতেন একজন কোঁকড়া চুল মোটাসোটা মিষ্টিমুখো শ্যামলা ছেলে ঢিলে কুর্তা আর পাজামা পরে ডান্ডা হাতে সবাইকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।’ এই বাড়িটি ছোট ছেলেমেয়েরা ঠাসা ছিল। সারাদিন পড়াশোনা, গানবাজনা, অভিনয়, খেলাধুলো, ছোটাছুটি লেগেই থাকত। সুকুমার সচিত্র জন্তু-জানোয়ারের ছবি দেখিয়ে ভাইবোনদের আশ্চর্য সব গল্প বলতেন। নানা রহস্য তৈরি করতেন তিনি। যেমন-ভবন্দোলা নামের একটা জানোয়ারের কথা বলতেন তিনি। মোটা, হেলেদুলে থপথপ করে হাঁটে। মস্ত পাইনের নাকি খুব সরু লম্বা গলা, সেটাকে পেঁচিয়ে গিঁট পাকিয়ে রাখে বা অন্ধকার বারান্দার কোণে দেওয়ালের পেরেকে নাকি গোল মুখ ভ্যাবাচ্যাকা চোখ কোম্পুকে ঝুলে থাকতে দেখা যায়! পরবর্তী জীবনে এর অনেক ভাবনা নিয়েই বিখ্যাত সব রচনা লিখবেন তিনি।
এ বাড়িতে আসতেন নানা গুণীজন। রবীন্দ্রনাথ থেকে জগদীশ বোস-সকলেই। আগে উপেন্দ্রকিশোরের সুকিয়া স্ট্রিটের বাড়িরও খুবই সমাদর ছিল এলাকায়। শোনা যায়, উপেন্দ্রকিশোর সে ঘরে বসে যখন বাজনা বাজাতেন, বাইরে লোকে দাঁড়িয়ে ভিড় করে শুনত। এখানেও নানা ঘরে সব সময়েই চলছে নানা কাণ্ড। আসতেন প্রফুল্লচন্দ্র রায়, শিবনাথ শাস্ত্রী। একবার শিবনাথ শাস্ত্রী একহাঁড়ি সন্দেশ দেখিয়ে বললেন, ‘এই এত সন্দেশ কেউ একলা খেতে পারে? তাতে সুকুমার বলল, ‘আমি পারি’। একটু পরে বলল, ‘কিন্তু অনেকদিন ধরে’। তাতে সবাই হেসে খুন। বাড়ির সবাইকে নিয়ে নাটকই হোক বা ননসেন্স ক্লাব, পশুপ্রেমই হোক বা প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যয়ন বা ব্রাহ্মসমাজ থেকে নব্য চলচ্চিত্র নিয়ে উৎসাহ – সবেই অদ্বিতীয় সুকুমার।
গড়পারের বাড়িতে ছিলেন ছাতের ঘরের সুধীরবাবু। মহাত্মা গান্ধীর ভক্ত এই ভদ্রলোক অসহযোগ আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় তকলি আর সুতো কিনে তাঁত বোনা আরম্ভ করলেন। এরপর ঘরে ঘরে চরকা শুরু হল। পাশাপাশি এলগিনের স্বদেশী মেলা বা দিদিমাও থাকতেন এ বাড়িতে। দিদিমার সাথে গ্রুপ ছবিও তোলা হয়েছিল। তুলতে এসেছিলেন এক সাহেব। স্বদেশী বিষয়ে সুকুমারের মধ্যম ভ্রাতা সুবিনয় বেশি উৎসাহী ছিলেন। সারা কলকাতা ঘুরে দিশি জিনিস
কিনে আনতেন, তারপর বাড়ি সুদ্ধ সকলে সেগুলি ব্যবহার করতেন। এবিষয়টি নিয়েও সুকুমার গান বাঁধলেন, দিশি পাগলার গান…
আবোল তাবোলের ডামি কপি ছাড়া নিজের রচনার একটিও পুস্তকাকারে দেখে যাননি সুকুমার। তবে পরবর্তীতে একে একে প্রকাশিত হয় হ য ব র ল, লক্ষণের শক্তিশেল, চলচ্চিত্তচঞ্চরীর, পাগলা দাশুর-র মত অদ্ভুত সব লেখা। সত্যজিতের আড়াই বয়সে সুকুমার মারা যান। সুকুমার মারা যাবার দু বছর পর পর্যন্ত চলেছিল সন্দেশ। সন্দেশ বন্ধ হবার পর ইউ রায় এন্ড সন্সের ব্যবসা উঠে গেল। ৬ বছর বয়সী সত্যজিৎকে নিয়ে তাঁর মাও উঠে এলেন ভবানীপুরের মামাবাড়িতে। এখান থেকেই শুরু হল, সত্যজিতের হয়ে ওঠার লড়াই। দোতলার দক্ষিণর ঘরে মায়ের সাথে থাকতেন ছোট সত্যজিৎ। বাড়ির কারও অসুখ করলে তাঁর মা লেগে পড়তেন সেবার কাজে। অবসরে ছোট সত্যজিৎকে ইংরেজি গল্প পড়ে শোনাতেন তাঁর মা। ইংরেজি থেকে বাংলা করে বলতেন। কোন্যান ডয়েলের গল্প। ধনদাদু কুলদারঞ্জের মেয়ে বুলুপিসিও ইংরেজির প্রথম ভাগ পড়াতেন। স্টেপ বাই স্টেপ বই থেকে।
বিশ্বকর্মা পুজোর দিন এ বাড়ির ছাতে উঠলে দেখা যেত ঘুরি গিজগিজ করছে। চারদিক থেকে শোনা যেত, ‘দুয়েক্কো! বাড়েনাক্কো’ ‘দুয়েক্কো! প্যাঁচ লড়েনাক্কো!’ এ ছাতের তিনটে লোহার শিকে চলে মাঞ্জা দেবার কাজ। শব্দগুলো। ঘুড়ি কাটলেই শোনা যায় সমস্বরে ‘ভোকাট্টা’..
ছোট সত্যজিৎ এই ছাতে খেলত রাঁধুনী বামনির ছেলে হরেন আর শ্যামা ঝিয়ের ছেলে ছেদির সাথে। ভাঙা বাংলা বলত শ্যামারা। ছেদি যদিও বাংলা শিখেছিল।
তখন কলকাতা অন্য রকম। পথ ঘাট সরু। রাতে গ্যাস আর তেলের বাতি। লাইনের ওপর দিয়ে ঘোড়ায় টানা ট্রামগাড়ি চলে। মোটর গাড়ি কেউ চোখেও দেখেনি। ট্যাক্সি নেই, ছ্যাকরা গাড়িতেই চলাচল। মেয়েরা চলে পালকিতে। দুপুরে চুড়িওলার হাঁক, সন্ধ্যায় কুলপি বরফওয়ালার, বেলফুলওলার গলাও শোনা যায়।
তখন কলকাতা সাহেবদেরও। বড়দিনটাকে উৎসবে ঢুকিয়ে নেওয়া বিশেষ দিক এ বাড়ির। বড় সমস্ত দোকানই সাহেবদের, চৌরঙ্গীতে। এরকমই একটা দোকান ওয়াইট আওয়ে লেইডল। পাশেই ছিল এই সাহেবের বাড়ি। বড়দিনে এই দোকানটা পুরোটাই হত টয়ল্যান্ড। কলকাতার প্রথম লিফট ছিল এ দোকানে। সোনালি রঙা লোহার খাঁচা এই লিফট। টয়ল্যান্ডের মেঝেজুড়ে পাহাড়, নদী ব্রিজ টানেল সিগন্যাল স্টেশান সমেত খেলার রেলগাড়ি এঁকেবেঁকে চলেছে রেললাইন দিয়ে। ঘরের নানাদিকে নানা রঙের বেলুন, রঙিন কাগজের শিকল, ঝালর, ফুল আর চিনে লন্ঠন। তার উপরে রঙবেরঙের বল আর তারায় ভরা ক্রিসমাস ট্রি। পাশে তিন মানুষ সমান লাল জামা লাল টুপি পড়া দাড়িমুখো ফাদার ক্রিসমাস। বাকি সবই বিলেতি খেলনা।
সত্যজিতের হাতেও রায়বাড়ির শিশু সাহিত্যের এ ধারা পূর্ণ বিকাশ পেল ক্রমে। শুধু ফেলুদা-শঙ্কুই না, সত্যজিতের ছোট গল্পগুলো পড়লে বোঝা যায়, রায়বাড়ি কীভাবে রুক্তে মিশে আছে তাঁর। এভাবেই এ লেখার শুরুর বাক্যে ফিরে গেলাম, রায়বাড়িতেই থেকে গেল বাঙালির আবহমান শৈশব।