দেবর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়

মন চুরি বাড়ছে কি না জানি না, কিন্তু ফোন চুরি বাড়ছে নিশ্চিত। পুজো আসছে। ভোট গেল সদ্য। বাজারে টাকা কম। চাকরি নেই। পকেটমারদের কি দোষ! তারপর, অনলাইনের বাজারে সবাই টাকাও রাখে এটিএমে! পকেট হাতরালে সাকুল্যে ফোন ছাড়া আর কি বা পাবে বেচারারা!
তা এমনই এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা হল সদ্য। বাসে উঠতে গিয়ে আচমকা দেখি পকেটে ফোন নেই। মিসিং! এ ঘটনা যার সাথে ঘটেছে, সেই জানে, ব্যথা কোথায় ও কতটা বাজে, তখন…তারপর মাথা ব্লক হল বেশ কিছু ঘন্টার জন্য। ভেসে ভেসেই থানায় গিয়ে ডাইরি করলাম। ভেসেই তারপর মোবাইলের দোকান, সিম কার্ড ব্লক করা ও নেওয়া এবং ভেসে ভেসেই বাড়ি ফেরা…

মোবাইল চুরি গেলে, মেন্টল শক বাড়ে বেশি। শরীর সবচেয়ে জরুরি অঙ্গ তো মোবাইলই আজকাল! দু দিন ট্রমাতেই ছিলাম। থানাতে গিয়ে শুনছিলাম, এ ঘটনা নাকি বেড়ে গেছে। অন্তত ৫ জন ছিলেন সেদিন, যারা ফোন হারিয়ে ডাইরি করতে এসছিলেন। কারও হাত থেকে ফোন খোওয়া গেছে তো কারও ব্যাগ কেটে ফোন নিয়ে, কেউ বা অটোয় মেসেজ করতে করতে আচমকা দেখেন ফোনটা ভ্যানিশ, নিজের হাত থেকেই…

যাই হোক, শক এখনও পুরোপুরি কাটেনি। চুরি যাওয়ার পর অবশ্য চোর বলেছিল, একবার পরের বাসস্টপে আসতে, ফোনটা ফিরিয়ে দেবে….তা শুনে সত্যিই মনে হয়েছিল, পুণ্য নেহাত কম করিনি, তারই ফল পেলাম….যদিও তার পরেই ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়…
জীবনে প্রথমবার ফোন হারালাম। প্রথম মন হাতানোর থেকে এ ব্যথা কম কিছু না। ঝড়জলে প্রায়ই মনে হত, ফোন হয়ত, এই গেল বলে…সেই বর্ষাকালেই ভোগে গেল ফোন, কি করেই বা ভালো থাকে মন!