রাজদীপ দাস

পাড়ার গলি থেকে ইডেন গার্ডেন্স—সবখানেই ক্রিকেট ছিল বাঙালির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০০০ সালের শুরুতে সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বে ভারতীয় ক্রিকেট নতুন আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছিল। শচীন টেন্ডুলকরের ব্যাট, দ্রাবিড়ের ধৈর্য, লক্ষ্মণের সৌন্দর্য, কুম্বলের লড়াই—সব মিলিয়ে ক্রিকেট ছিল এক শিল্প।
তারপর সময় বদলাল। টি-টোয়েন্টি এল, আইপিএল এল, প্রযুক্তি এল। ক্রিকেট আরও দ্রুত, আরও রঙিন, আরও বাণিজ্যিক হয়ে উঠল। বিরাট কোহলির আগ্রাসন, রোহিত শর্মার ছক্কা, জসপ্রীত বুমরার নিখুঁত বোলিং—নতুন প্রজন্মকে নতুন স্বপ্ন দেখাল।
কিন্তু কোথায় যেন হারিয়ে গেল সেই ধৈর্যের ক্রিকেট! পাঁচ দিনের টেস্টের উত্তেজনা, একটি ইনিংস গড়ে তোলার সৌন্দর্য, একজন ব্যাটসম্যানের চরিত্রের পরীক্ষা—এসব যেন আজ ক্রমশ আড়ালে চলে যাচ্ছে।

আজও ক্রিকেটে কোটি কোটি দর্শক। প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় চার-ছক্কার ভিডিও ভাইরাল হয়। প্রতিটি বড় ম্যাচ উৎসবের মতো উদযাপিত হয়। কিন্তু ক্রিকেট কি শুধুই স্ট্রাইক রেট, পাওয়ার-হিটিং আর ট্রেন্ডিং রিলস?
ক্রিকেট একদিন শিখিয়েছিল—একটি ইনিংস শুধু রান দিয়ে নয়, ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর মানসিক শক্তি দিয়েও স্মরণীয় হয়ে ওঠে। একজন ক্রিকেটার শুধু ট্রফি জিতে নয়, নিজের চরিত্র দিয়েও কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন।
আমার দেখা ২০১১ থেকে ২০২৬—ক্রিকেট অনেক বদলেছে। বদলেছে নিয়ম, প্রযুক্তি, খেলার গতি। কিন্তু ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য যেন কখনও হারিয়ে না যায়। কারণ, এই খেলাই আমাদের শিখিয়েছে—জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে থেকেও ক্রিকেট মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারে।