
সম্প্রতি অরুন্ধতী রায়ের প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘মাদার মেরি কামস টু মি’ নিয়ে পাঠক সমাজে নানা আলোচনা চলছে। বিটিলসে্র বিখ্যাত গান ‘লেট ইট বি’ থেকে নেওয়া বইটির শিরোনাম। নিজের মা-কে নিয়েই লিখেছেন এই বই তিনি। মূলত মা-মেয়ের সম্পর্কের জটিলতার নানা পরতে আলো ফেলেছেন অরুন্ধতী। সে আলোয় মা মেরি রায়ের ছায়ায় নানা ফারাক নিয়েও গড়ে উঠছে অরুন্ধতীর আত্মপরিচয়, রাজনীতি এবং কর্মজীবন।

কেমন লাগছে অরুন্ধতীর দীর্ঘদিনের পাঠকদের? ট্রামলাইন কথা বলেছে তাঁদের সঙ্গে।
অরুন্ধতীর লেখার দীর্ঘদিনের পাঠক অভিজিৎ বসুর কথায়, এটি তাঁর প্রথম স্মৃতিকথা। মায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নিরিখে জীবনের কথা তিনি বলেছেন এই বইতে। জীবন থেকে রসদ নিয়েই যেন তৈরি একটি উপন্যাস— এ বই। তবে, অরুন্ধতী এই বইটির ক্ষেত্রে ‘রিভার্স প্রসেস’ ব্যবহার করেছেন।

নব্বই দশকের লেখা ‘গড অফ স্মল থিংক্স’ থেকে ‘মাদার মেরি কামস্ টু মি’ তে ফিরে এলে দেখা যাবে, এখানে উপন্যাসের চরিত্রগুলি বাস্তব জীবনে ঢুকে পড়ছে আত্মজীবনীর মাধ্যমে। অভিজিৎবাবু একে এক রকমের সাহিত্যের খেলা বলেই মনে করেন। অরুন্ধতীর সুখপাঠ্য ইংরেজিরও দীর্ঘদিনের অনুরাগী তিনি।
নর্মদা আন্দোলন, মধ্যপ্রদেশের গভীর অরণ্যে নকশালদের সঙ্গে কথা বলতে চলে যাওয়া, এমনকি, আমাদের দেশের প্রথম পরমাণু শক্তির পরীক্ষা নিয়ে লেখা অরুন্ধতীর বিখ্যাত বই ‘The End of Imagination’ বা বিখ্যাত ছবি ‘ব্যান্ডিট কুইনে’র ওপর তাঁর যে সমালোচনামূলক লেখা— সেই সমস্ত কিছুর নেপথ্য কাহিনী রয়েছে এই বইতে।

ট্রামলাইনের সম্পাদক তথাগত দত্তের কথায়, অরুন্ধতীর মা আজীবন ‘ট্রেড ইউনিয়নে’ নারীর অধিকারের জন্য লড়েছেন। আর তাঁকে দেখতে দেখতে ও বড় হতে হতে অরুন্ধতী কীভাবে নিজেকে ছোটোবেলা থেকে তৈরি করেছেন— সেটিই কিন্তু এই বইটির মূল বিষয়।
তবে অরুন্ধতীর ‘বিদ্রোহী স্বভাব’ও খুবই পছন্দ করেন তথাগতবাবু। যে কারণে সারাজীবন অরুন্ধতী এমন কিছু প্রান্তিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, যার হয়ে কথা বলার লোক খুব বেশি আজ আর নেই…
আজকের ভারতে যখন মুক্ত চিন্তা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তখন অরুন্ধতী রায়ের লেখা আরও বেশি করে পড়া হবে, এটুকুই আমাদের আশা…