ট্রামলাইনে লিখেছেন সৌম্যা ঘোষ

ইউজিন আওনেস্কো-র ‘রাইনোসোরাস’ নাটকটির থিম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অভিনেতা ও পরিচালক গৌতম সরকার তৈরি করেছেন ‘ষন্ডার’। সারা পৃথিবীতেই একাধিকবার নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে এই নাটক। সমকাল আবারও আক্রান্ত, তাই, আগামী ২৭ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত এই নাটকটিকে আবার মঞ্চস্থ করছেন তাঁরা। স্থান, শোভাবাজারের লাহা কলোনি মাঠ।
‘ষন্ডার’ কেবল চরিত্র নির্ভর নাটক নয়, সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক— বিভিন্ন পরিবর্তনকে সঙ্গে নিয়েই চলে এই নাটক। প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী হিরণ মিত্রের বিভিন্ন পরামর্শ, তাঁর ছবি এই নাটকটিকে সমৃদ্ধ করেছে।
তবে, এই নাটকের অভিনবত্ব ‘নাট্যশালা’ নির্মাণ, যা দর্শকদের মন কেড়েছে!

থিয়েটারকে মঞ্চ থেকে রাস্তায় নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে নানা সময়ে লড়েছেন নানা নাট্য-ব্যক্তিত্ব। কখনও এ প্রসঙ্গে আসবে পিটার ব্রুক তো কখনও গ্রোটস্কি বা বাদল সরকার, সাফদর হাশমিদের নাম। সেই পরম্পরাকে মাথায় রেখেই এবং কিছুটা সরে এসেও গৌতম মানুষের গল্প বলতে চান মানুষের মধ্যে থেকেই। তা ছাড়া, প্রেক্ষাগৃহ পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা থাকেই। গৌতমবাবু আরও মনে করেন, আমাদের থিয়েটার শুধুমাত্র নগরকেন্দ্রিক হয়েই রয়ে গিয়েছে। আম-জনতার থেকে তাই ক্রমেই আমরা দূরে সরে চলেছি প্রতিনিয়ত।

গৌতমবাবুরা যে বিকল্প মঞ্চ বানিয়েছেন, তা
যে-কোনো ফাঁকা জায়গাতেই এর ব্যবহার করে থিয়েটার বা সিনেমা দেখানো যেতে পারে। মঞ্চের দু দিকে বসবেন দর্শকরা এখানে। এমনকি ব্যাটমিন্টন-ভলিভল খেলার জন্যও ব্যবহার হতে পারে এই স্পেস!
এই নাটকের স্পেস হিসেবে আগে একটি পুরোনো প্রেক্ষাগৃহকে বাছে নেওয়া হয়। বলতে গেলে, এক পাগলামি থেকেই এই বিকল্প মঞ্চের নির্মাণ। এর উদ্যোগীরা কোনো হায়ার করা লোক নয়, বরং ‘ষন্ডারে’র ইয়ং থিয়েটার-কর্মীই।

থিয়েটারে এমন নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ, নতুন কোনো ভাবনার সন্ধান এর আগেও হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধরণের প্রয়োগমূলক পরীক্ষা চলতেই থাকবে। তবে তাঁদের এই উদ্যোগ, নবীন থিয়েটার-কর্মীদের এই উৎসাহ, এই পরিশ্রম দর্শকদের দরবারে প্রশংসনীয় হবে, এটাই আশা!