
আজ রথ। সেই যথারীতি একটানা বৃষ্টি। রথের দিন বৃষ্টি হওয়াটা অনিবার্য যেন। আমাদের ছোটবেলার রথ যদিও কিছুটা আলাদা ছিল। বাড়ির বড়রা তিনতলা সমান ছোট ছোট রথের দড়ি হাতে ধরিয়ে দিত। উঁচু-নিচু পিচের রাস্তা পেরিয়ে, ট্যাক্সি-রিকশা সামলে সেই রথ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ছিল চ্যালেঞ্জ। যতই সাবধানে রথকে টানি না কেন, স্টিলের বাটির প্রসাদ বাতাসা-নকুলদানা মাটিতে পড়বেই।
কেউ কেউ বাহারি পাতা, কেউ বা দশকর্মা ভান্ডার থেকে সস্তা মার্বেল কাগজ কিনে আঠা দিয়ে কাঠের সঙ্গে সাঁটিয়ে দিত বড়।
রথের দিন পাড়ার মোড় অবধি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, উল্টো রথের দিন সেই রথ ফিরিয়ে আনা।
আজও রথ উৎসব হয়, আজও বৃষ্টি নামে। কিন্তু, কোথায় যেন বেমানান লাগে আজকের রথের চিত্রটা। এখন গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ করে ব্যারিকেড করা হয়। যেন ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। বিপুল মেলা এবং বাজনার তলায় কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে আমাদের ছোটবেলার সাদামাটা রথের দিনগুলো। এমনকি রবিঠাকুর ‘রথের রশি’তে যে রথ টানার কথা বলেছিলেন, আজকের রথ তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
সবকিছুকে ধর্মের রঙে দেখাটা কি খুব কাজের?
তাতে কি হারিয়ে যায় না ছেলেবেলার মনকেমনগুলো?
তবে, ট্রামলাইনের তরফ থেকে রইল রথযাত্রার শুভেচ্ছা।