অগ্নি রায়

ষষ্ঠী
নমস্তসৈ নমস্তসৈ সুরের গমক
ছেড়ে যাওয়া মুখ ফিরেছে চমকে,
রাত জাগা প্যান্ডেলে।
মধুকৈটভাদিদৈত্য দলনী
নেমে আসছেন, ঝটিতি, এখনই
কাটাপুকুরে্র পিছনের ঘাটে
অখিল বিমানে ম্যাজিক ঘটাতে।
ভর দিবালোকে জ্বলতে দেখছি
জোনাকির মৌতাত!
সপ্তমী
বাতাসে আজ তামাক মিশেছে
আড়ালে চুম্বন,
বান্ধবী তার হেন দশভুজা
প্যান্ডেল ছেড়ে চকিতে সহসা
একহাতে আঁচল সুনীল বরণ
রুণুঝুনু রবে বাজে আই ফোন
বাদবাকি সব গোপনেই থাক
তাহাদের সংরাগ।
অষ্টমী
জামদানি তাঁতে মাতল ভুবন
আইলাইনারে ধরেছে আগুন,
সেলফি পরাণ যত পুজোশ্রী
আকাশের ছোঁয়া ছাদে।
অসুর বধের পরই তো তিনি,
হাতে হাতে দেন টেকিলা বাহিনী
এমন করে কি মাতালের পানে
তাকিয়ে থাকিতে আছে!
নবমী
জিন গন্ধ বয়ে আনে উত্তরের হাওয়া,
লেবুর গন্ধে নিশি নবনীত
প্যান্ডেল আজ বিরহ প্লাবিত
ঢেকে যাক দিক এবং বিদিক
ব্লাউজ়ের বিপ্লবে!
এমন রাতেই বিরহের কথা,
শাহরুখের হাত ছড়ানো বারতা
মনকেমনের শেষ ফোঁটাটুকু
বোতলের শেষভাগে।

দশমী
বোধন সন্ধ্যা থেকে যে ছেলেটি
স্টলে ছিল না যে ক্রেতার বিরতি,
শেষমেষ তবে এল কি তাহার
বিসর্জনের ছুটি?
জোয়াল নামিয়ে দুনিয়াদারির
ভাসান দেখতে যাবে সে এবারই,
দশমীর চাঁদ আলো ফেলে তার
রেল ব্রিজের কাছের বাড়ি।
