লিখছেন সৌম্যা ঘোষ
পুজো-পুজো করে পুজো এসেই গেল। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। দিগন্তের নীল আকাশ চুঁইয়ে স্বচ্ছ রোদ বর্ষার সবুজ পাতার গায়ে পড়ছে। সবুজের রং আরও গাঢ়-উজ্জ্বল হচ্ছে। তার সাথেই সারা শহর সাজছে। বাঁশ পড়ছে ফুটপাতের ধার বেয়ে। ব্যানার-হোর্ডিং আর শরতের রোদে সকালে শহরের সাজ একরকম। রাতে গোটা শহরে আলোর রোশনাই। যেন কেউ রাংতায় মুড়ে রেখেছে গোটা শহরটাকে।
পুজোর বাজারে ভিড়-জমজমাট। গড়িয়াহাট-শ্যামবাজার চত্বরে চোখ ধাঁধানো বড় বড় ইলেকট্রনিক হোর্ডিং, LED স্ক্রিন এবং ডিজিটাল ডিসপ্লে। হোর্ডিং। কোথাও আবার ট্রাকের পেছনে চলমান বিজ্ঞাপন। আর এই সবটার মধ্যেই আছে বিজ্ঞাপনের বাজার, পুজো কমিটিগুলির অর্থনৈতিক হিসেব আর শহরের বাণিজ্যিক পরিসরের পরিবর্তনও।
এই পরিবর্তন নিয়ে এক বিশেষ বিজ্ঞাপন সংস্থা জানিয়েছে, আগে হোর্ডিং বা ব্যানারের ওপর ভরসা করেই শুধু বিজ্ঞাপন চলত। বিগত কয়েক বছর ধরে এল ই ডি স্ক্রিনে তা ডিজিট্যালি করা হচ্ছে। আর ব্যানারে সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন আনা অসম্ভব। ডিজিটাল স্ক্রিনে সেখানে একাধিক বিজ্ঞাপন দেখানোরও সুযোগ থাকে আর তা বেশ আকর্ষণীয়।তাই, ব্র্যান্ড-ব্যবসা সবটাই বাড়ছে।’
ডিজিটাল প্রযুক্তি বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের নতুন সুযোগ তৈরি করলেও সেখানে পুজো কমিটির লাভ বাড়ছে কি না, তা শুধু প্রযুক্তির উপস্থিতি দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
সূত্র অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর সময়ে অস্থায়ী LED হোর্ডিং বা ফ্লেক্সে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য প্রতিদিন প্রতি বর্গফুটে ৬০০ টাকা ফি ধার্য করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। একই প্রতিবেদনে আবার LED-বিহীন প্রচলিত হোর্ডিং, ব্যানার ও ফ্লেক্সের ক্ষেত্রে ওই ফি মকুবের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়।
প্রচলিত বিজ্ঞাপন মাধ্যম এবং LED-ভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মধ্যে পুরসভার ফি-সংক্রান্ত পার্থক্য রয়েছে। ফলে ডিজিটাল হোর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকটিও প্রয়োজন।
একদিকে ব্যানার ও ফ্লেক্স, অন্যদিকে ইলেকট্রনিক হোর্ডিং। পুজোর সময়ে বিজ্ঞাপনের শহরে এই দুই মাধ্যমের সহাবস্থানে, আলোর রোশনাইয়ের আড়ালে থাকা অর্থনীতি আর প্রশাসনিক ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।