
মাতৃ আরাধনার উৎসব-দুর্গাপুজো যখন সামনে, তখনই প্রশ্ন ওঠে নারীর সামাজিক অবস্থান নিয়ে। যে সমাজে দেবীকে শক্তিরূপে আরাধনা করা হয়, সেই সমাজেই বিয়ের আচার-অনুষ্ঠানে লজ্জাবস্ত্র, পানপাতা, সিঁদুরে একজন নারীকে ‘দাগিয়ে’ দেওয়া হয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের এইসব আচার নিয়েই প্রশ্ন তোলেন মহিলা পুরোহিত রোহিণী ধর্মপাল।
রোহিণী’র এই লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা তাঁর মা গৌরী ধর্মপাল। রোহিণী’র মতে, কন্যা সম্প্রদান যদি একটা চুক্তিপত্র হয় তা হলে সিঁদুর দানটাও এক প্রকার সিলমোহর। রোহিণী’র দাবি, ‘বীরপুত্রের জননী হও’-র পরিবর্তে বলা হোক বরং ‘সাহসিনী হও’ বা ‘তেজস্বিনী হও’— কারণ মা হওয়া কোনও নারীর বাধ্যতামূলক পরিচয় নয়।
শুধু বিয়ে নয়, তর্পণের বিভিন্ন সামাজিক আচারেও নারীদের ঘিরে থাকা নিষেধাজ্ঞা ও কুসংস্কারকে প্রশ্ন করেছেন তিনি। তাঁর কাছে বিয়ে মূলত দু’জন মানুষের পারস্পরিক সম্মতি ও ভালোবাসার উদ্যাপন। তাই অপ্রয়োজনীয়, অবমাননাকর বা পিতৃতান্ত্রিক রীতিগুলিকে ধরে রাখার প্রয়োজন নেই।
সামাজিক মাধ্যমে বিরোধিতা ও কটূক্তির মুখোমুখি হলেও তিনি তাঁর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রোহিণী’র কথায়, অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাওয়া কুসংস্কারের ধুলো ঝেড়ে ফেলে সমাজের অন্ধকার জায়গাগুলিকে সংস্কার করাই আমার কাজ।