মঞ্চে আবার পরশপাথর, স্মৃতিতে আজও কলেজবেলার ‘ইচ্ছেডানা’…
সৌম্যা ঘোষ

আগামী ২২অগস্ট মধুসূদন মঞ্চে গান গাইবে ‘পরশপাথর’। প্রায় বছর কুড়ি পর। আয়োজনে কৃতি এবং ফেবলওয়ার্কস। ‘পরশপাথরে’র কথা বলতে গেলেই ছোটবেলার কথাই বেশি মনে পড়ে…
তখন সদ্য ডিভিডি প্লেয়ার এসেছে বাড়িতে। তাই সিডি শোনার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষত শ্যামবাজার-এসপ্ল্যানেড থেকেই কেনা হতো দুর্দান্ত সব বাংলা ব্যান্ডের সিডি। সেভাবেই হাতে এলো একটা নতুন সিডি, নাম— প্রিয় বন্ধু, অঞ্জন দত্ত।
কোনও এক বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে হঠাৎই কানে আসে অর্ণব-জয়িতার গল্প আর তার সঙ্গেই কানে আসে একটা গান—
“ভালোবাসা মানে ধোঁয়া ছাড়ার প্রতিশ্রুতি/ভালোবাসা মানে এলোচুল মাতোয়ারা/ভালোবাসা মানে সময় থামার আগে/ভালোবাসা তোমার শুরু, আমার সারা”…
তখনও জানতাম না একটা গোটা প্রজন্ম স্রেফ ভালোবাসে ধোঁয়া ছেড়ে দেবে এই গানের জন্য। তখনও জানতাম না, একটা আস্ত প্রজন্মের ভালোবাসার নাম হয়ে যাবে ‘আর্চিস গ্যালারি’…
তো, দিদির ঘরে চলছিল প্রিয় বন্ধু। কলকাতা ছেড়ে যাবে না বলে, নিজের ভবিষ্যৎ-বড় চাকরি-প্রেম সব ছেড়ে দেয় এক পাগলপারা যুবক। কীরকম যেন অজানা একটা কষ্ট হচ্ছিল শুনতে শুনতে। গলায় দলা পাকাচ্ছিল কষ্টটা। দিদিকে বলতেও পারছিলাম না। দেখছিলাম, আমার মতই দিদিরও চোখের কোণ চিকচিক করছে…
‘ভালো লাগে স্বপ্নের মায়াজাল বুনতে/ভালো লাগে ওই আকাশের তারা গুনতে/ভালো লাগে মেঘলা দিনে নিস্পলকে রামধনু খুঁজতে, বন্ধু…’ কিংবা ‘আজও আছে’…
বড় হতে হতে মনখারাপ হতো। কখনও কাজ নিয়ে চিন্তা, কখনও বা প্রেম। বুঝেছি, জীবনে কেউ কারও না। বন্ধুরাও না। তবে ঠিক কোন জীবনের জন্য এত মায়া? সত্যিই কি সবটা ইল্যুশান? মহীনের গানে আগেই শুনেছি, হাত বাড়ালেই বন্ধু পাওয়া যায় কি? বাড়ালেই হাত বন্ধু সবাই হয় কি? আর তার পরেই শুনলাম পরশপাথরের গান, ‘বন্ধু!’ তবে কি আগামী জীবনেও রয়েছে সেই বন্ধুরাও? রাস্তার বাঁকে দাঁড়িয়ে? সবাই তাহলে খারাপ না? আর কিছুটা জীবন পেরোলেই ওদের, বন্ধুদের, দেখা মিলবে?
পরশপাথর এভাবেই অজান্তে জড়িয়ে গিয়েছিল আমার মতো অজস্র যুবক যুবতীর বেড়ে ওঠার বয়েসগুলোয়। আমরা বুঝতে পারিনি, গানগুলো শরীর আর মনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। আগামী জীবনে বারবার ডাক পাঠাবে এই গানগুলো…
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল ছাত্র গান গাইছে ‘সুজন’। সেটাই একদিন হঠাৎ শুনে ফেললাম। কি ভালো গানটা! গিটার নিয়ে গাইছে ছেলের দল, মিলনদার ক্যান্টিনে… তারপর থেকে মনটা অন্য খাতে বয়ে চলল। অনেক বছর পর, অনেক সময় পর এই গানগুলোই যখন আজ হঠাৎ কানে আসে, সেই দিনগুলো মনে পড়ে। এখন রোজকার অফিস জীবন। হয়ত বাসে আসছি অফিসে, আচমকা, হেডফোনে বেজে উঠল পরশপাথর, আর মনে পড়ে গেল, যাদবপুরের সেই বিকেলটা!
এখনও যখন মনে হয়, হয়তো আর কিছুই নেই, আর কোনও কিছুই সত্যি হওয়ার নয়, আশপাশ যখন দাবিয়ে রাখতে চাইছে, তখন ভীষণরকম ‘ইচ্ছেডানা’ গানটার কথা মনে পড়ে। জেদ চাপে। কিন্তু আমি জানি, ইচ্ছেরা একদিন পূর্ণতা পাবে। যাদের আজ উড়তে মানা, তাদের একদিন অবাধ স্বাধীনতা মিলবেই।
আমরা তো জেন-জি প্রজন্ম। আমাদের আগের প্রজন্ম পেয়েছিল সরাসরি পরশপাথর। আমরা পেলাম তাদের পেরিয়ে এ গানগুলো। ততদিনে ব্যণ্ড ভেঙে গেছে। আলাদা হয়ে গেছে পরশপাথর। তবু, গানগুলো কীভাবে আমাদের জীবনে, প্রজন্ম পেরিয়ে, ঢুকে পড়ল? এখানেই হয়ত শিল্পের জাদু…
‘তানিয়া’ গানে অঞ্জন যেমন বলেছিলেন, চারপাশ বদলে যায়। শিল্পীদের মানুষ ভুলে যায়। বদলায় সময়ও। কিন্তু গান থেকে যায়, থেকে যায় কবিতা বা সিনেমা, মহাকালের কাছে বারবার ফিরে ফিরে আসে সে উচ্চারণ
‘তবু হয়তো থেকে যাবে/আমাদের গান তানিয়া’…
অনুষ্ঠানের টিকিটের জন্য নীচের লিংক ও নম্বরে কানেক্ট করুন-
Tickets at www.kriti-events.com
Enquiries 82406 26725