‘পরশপাথর’ বললেই কী মনে পড়ে কলকাতাবাসীর?
লিখেছেন সৌম্যা ঘোষ

স্কুল-ফেরত বিকেল। বা, কলেজ শেষের বিষণ্ণ সন্ধ্যা। নজরুল মঞ্চ হোক, বা গিরীশ মঞ্চ, ব্যান্ড প্রজন্মের কাছে তাঁদের স্বধর্ম ছিল ‘পরশপাথর’। তথ্য প্রযুক্তির সংস্থার এক উচ্চপদস্থ কর্মী অয়নদীপ রায়ের মতে, পুরো কলেজবেলাটা জুড়েই ছিল ‘পরশপাথর’। কলেজ ফেস্টে প্রথম শুনেছিলাম পরশপাথর। ‘ইচ্ছেডানা’, ‘ক্যাসেট’টা দিয়ে প্রথম প্রোপজ় করি। সেই প্রেম, সেই কলেজ— কোনওটাই নেই। তবু, থেকে গিয়েছে ‘পরশপাথরে’র গান…
প্রবাসী ভারতীয় হিসেবে বছর ছয়েক লন্ডনে বাস ইন্দ্রাণী মজুমদারের। জানালেন, বড় ইচ্ছে ছিল বাংলা গান গাইবেন। কলেজে একটা ব্যান্ডও ছিল। ‘ভেবেছিলাম কলকাতাতেই বাংলা গান গেয়ে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেব। কিন্তু, বিয়ে করে প্রবাসে এসে সংসার হলো, কিন্তু গানটা হারালো। আজকাল, ছেলে গিটার নিয়ে মাঝেমাঝে গায় ‘ইচ্ছেডানা’, ‘আর্চিস গ্যালারি’। এভাবেই পরশপাথর আবার আমার জীবনে ফিরে এসেছে…’
গত দু’দশক সাংবাদিকতা করছেন অরিত্র রায়। জানালেন, দীর্ঘদিন বাসে যাতায়াতের পথে প্রায়ই দেখা হতো এক মহিলা সহকর্মীর সঙ্গে। তখন কলকাতায় ছিল ‘আর্চিস গ্যালারি’ আর ‘মিউজিক ওয়ার্ল্ড’। একদিন সাহস করে নানা কথার মাঝে অরিত্র ‘তাঁকে’ জানায়, ‘একবার কি মিউজিক ওয়ার্ল্ডে যাওয়া যায়?’ তাঁরা সেখানে যেতেই শুনতে পায়, বাজছে, ‘ভালোবাসি স্বপ্নের মায়াজাল বুনতে’। ‘গানটা শুনেই ‘পরশপাথরে’র ক্যাসেট গিফ্ট করি ওকে। তারপর আর্চিস গ্যালারিতে গিয়ে কার্ডও কিনি। মনে আছে, সেদিন ডিসেম্বরের পার্ক স্ট্রিটের গোটা সন্ধে রাস্তা হাঁটি আমরা। বড়দিনের অজস্র আলো, অনেক রোশনাইয়ের মাঝে বাকি রাস্তাটা হাঁটি দু’জন। আলাদা করে আর তারপর কিছুই বলতে হয়নি। এখন সে আমার সহধর্মিনী…
২০ বছর পর এভাবেই শহরবাসীর মনে জমিয়ে আছে ‘পরশপাথর’। আজ সন্ধায় শোনা যাবে এমনই অনেক গান ও গল্প…