
লিখছেন সৌম্যা ঘোষ
যাদবপুর মানেই একটা চমক। বরাবরই মুক্তচিন্তা লালন করে এসছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
২০২৬ সালের স্নাতক প্রবেশিকা প্রশ্নপত্রেও দেখা গেল সেই মুক্তচিন্তারই ছাপ।
প্রশ্নকর্তা অধ্যাপকরা ট্রামলাইনকে জানালেন, কেবল পুঁথিগত বিদ্যাই নয়, বরং, অভিনবত্বের সন্ধানেই ছিলেন তাঁরা। আর তাই, প্রশ্নপত্রে ভেসে উঠেছে ‘তোমার ছোটবেলার ইচ্ছেগুলো বা খামখেয়ালগুলো’ বা ‘উত্তর কুমার বনাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়’ বা ‘যে বইটি তোমার প্রিয়জনকে উপহার দিতে চাও’ এর মতো ছাত্রছাত্রীদের মনের কথাগুলো জানার প্রয়াস।
এবং মুহূর্তেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল সেই প্রশ্নপত্র।
এ বিষয়ে প্রশ্নকর্তা অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিনহার সঙ্গে কথা বলল ট্রামলাইন। জানালেন, বাংলা বিভাগেই কেবল নয়, আর্টস ফ্যাকাল্টি জুড়েই মোটের ও
উপর প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ভাবনা-চিন্তা থাকে।
পরীক্ষার্থীরা কোন পরিবেশ থেকে আসছে, তার থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় তার মনের কল্পনা প্রসারের।
ভাইরালটা বড় কথা নয়, আমরা ক্রমাগত নিয়োজিত শিক্ষা পদ্ধতিকে আরও উন্নত করতে।
যাদবপুরের সূচনালগ্ন থেকেই শঙ্খ ঘোষ, অলোকরঞ্জন, বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, অমিয় দেব, নবনীতা দেবসেন… এমনকি সাম্প্রতিক অতীতে শিবাজী বন্দোপাধ্যায় বা সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়রা বরাবরই চেয়ে এসেছেন ছাত্রদের অন্যভাবে ভাবাতে। আর তাই, যাদবপুরের প্রাক্তনীদের মধ্যে জ্বলজ্বল করে বাদল সরকার, কবীর সুমন, সুমন মুখোপাধ্যায়ের মতো বাংলা সংস্কৃতির দিকপালদের নাম।
স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ মুক্তশিক্ষার এই পরিসরের স্বপ্নই দেখেছিলেন।
আর তাই, বিশ্বভারতীর মতোই যাদবপুরেরও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনিই।