অরূপরতন চক্রবর্তী

রথযাত্রা এলেই কলকাতা-সহ বাংলার নানা প্রান্তে শুরু হয়ে যায় খুঁটিপুজো। এই দিনটিকেই অনেক পুজো কমিটি দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে বেছে নেয়। খুঁটিপুজো হয়ে গেলে যেন সবাই বুঝে যায়—মা দুর্গার আগমনের আর বেশি দেরি নেই।
মজার বিষয় হল, খুঁটিপুজোর কথা শ্রদ্ধেয় চিন্তাহরণ চক্রবর্তীর হিন্দুর আচার-অনুষ্ঠান বইয়ে নেই। অনেকেরই ধারণা, এই রীতির সরাসরি কোনো পৌরাণিক ভিত্তি নেই। এটি সম্ভবত সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা এক লোকাচার।
আজকের মতো থিম পুজো বা বড় বড় ক্লাবের আয়োজন আগে ছিল না। দুর্গাপুজো মানেই ছিল বনেদি বাড়ির ঠাকুরদালান। রথযাত্রার দিন অনেক পরিবার প্রতিমা তৈরির কাঠের কাঠামোর পুজো করতেন। এই আচারই ‘কাঠামো পুজো’ নামে পরিচিত ছিল। তারপর ধীরে ধীরে সেই কাঠামোর ওপর গড়ে উঠত মাটির দুর্গাপ্রতিমা। অনেকের মতে, সেই কাঠামো পুজোর রীতিই পরে বদলে খুঁটিপুজোর রূপ নিয়েছে।

খুঁটিপুজো শব্দটি নিয়েও একটি মজার ধারণা রয়েছে। বাংলা ভাষায় ‘কোটি’ শব্দের অর্থ শীর্ষ বা সর্বোচ্চ অংশ। কেউ কেউ মনে করেন, ‘কোটিপূজা’ শব্দটি ধীরে ধীরে বদলে ‘খুঁটিপুজো’ হয়েছে। তবে এই মতের পক্ষে নিশ্চিত কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।
আজ পুজোমণ্ডপে যে লম্বা খুঁটি বসানো হয়, সেটি শুধু একটি দণ্ড নয়, দুর্গাপুজোর শুরুর প্রতীক। সেই খুঁটি যেন জানিয়ে দেয়, শুরু হয়ে গেল বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের অপেক্ষা। খুঁটিপুজো তাই শুধু একটি আচার নয়, দুর্গাপুজোর আবেগ, প্রস্তুতি আর উৎসবের প্রথম সুর।
ছবি সৌজন্য: চেতলা অগ্রণী ক্লাব