
বিশ্বকাপ শেষ। সমাজমাধ্যম খুললেই একটাই পোস্ট— “নীল-সাদার জন্য ২০২৬ বড়ই খারাপ।” ফাইনালে মেসি ব্যর্থ। শেষ বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে দিল স্পেন! টিভি চ্যানেলগুলোও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে। কে কোথায় ভুল করল, কার বদলি আগে হওয়া উচিত ছিল, মেসির বয়স কি শেষ পর্যন্ত ধরা দিল—সব নিয়ে হুলস্থুল।

কিন্তু কলকাতায় বিশ্বকাপের আসল পোস্ট-মর্টেম কোনও টিভি স্টুডিওতে নয়, গড়িয়াহাট মার্কেটের মোড়ের আড়ালে বিল্লা বা তাপসের চায়ের দোকানে। রাত জেগে খেলা দেখার পর আজ সকালে চায়ের ভাঁড় হাতে কাকু-জ্যেঠুদের সভা বসেছে। একদল এখনও নীল-সাদা জার্সি পরে এসেছে। আরেকদল মুখে রহস্যময় হাসি। তারা সম্ভবত “ভাল ব্রাজিল!”

দুধ-চিনি ছাড়া গরম চায়ে চুম্বকের পর প্রথমেই ডায়লগটা এল পল্টুকাকুর কাছ থেকে, “দেখলে তো! আমি আগেই বলেছিলাম, স্পেনকে হালকা নিলে চলবে না।” সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা দিলেন অসিতবাবু, “আরে ধুর! ওটা ফাইনালই ছিল না। আসল ফাইনাল তো ফ্রান্স-ইংল্যান্ড থার্ড প্লেসের ম্যাচটা ছিল। ওই ম্যাচটাই আসল খেলা। বাজারের আলুর আড়তের হোলসেলার প্রশান্ত রাত জেগে লা-লিগা থেকে ইপিএল দেখা মানুষ। চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে বললেন, “আর্জেন্টিনা তো ভাগ্য করে ফাইনালে উঠেছিল। স্পেনের বিরুদ্ধে ওদের মিডফিল্ডই দাঁড়াতে পারেনি।” এদিকে পাশে বসা এক কমবয়সী মেসি-ভক্ত ক্ষুব্ধ। “একটা ম্যাচ দিয়ে মেসিকে বিচার করবে? আটটা ব্যালন ডি’অর ভুলে গেলে? ওর জন্যই তো এতদিন রাত জেগে খেলা দেখেছ!” দোকানদার হেসে বলে ওঠেন, “দাদা, আগে চায়ের দামটা দিন। তারপর মেসিকে বাঁচাবেন।”

চায়ের দোকানের এই তর্কে তথ্যের থেকেও আত্মবিশ্বাস বেশি। একজন মোবাইল খুলে ইউটিউবের বিশ্লেষণ দেখাচ্ছেন, আরেকজন ফেসবুকের পোস্ট পড়ে শোনাচ্ছেন। তৃতীয়জন বলছেন, “আমি কিন্তু ম্যাচের আগেই হোয়াটসঅ্যাপে লিখেছিলাম, স্পেন চ্যাম্পিয়ন হবে!” যদিও সেই বার্তাটি আর কেউ খুঁজে পাচ্ছেন না!