
অরূপরতন চক্রবর্তী
কলকাতার দুর্গাপুজোয় ঠাকুর দেখা একটা ব্যাপার, আর কার সঙ্গে ঠাকুর দেখতে যাচ্ছেন—সেটা আরেকটা! বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের কাছে পুজোর পাঁচটা দিন যেন সরকারি ভাবে ঘোষিত ‘ফ্রি সোশ্যাল লাইফ’। প্রেম থাকুক বা না থাকুক, নতুন জামা, নতুন জুতো, বন্ধুদের দল আর একসঙ্গে ঘোরার অজুহাত—সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো অনেকের কাছেই যেন পাঁচ দিনের ভ্যালেন্টাইন্স ডে!
দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ প্রতিষ্ঠান দুর্গাবাড়ি (সাউথ পয়েন্ট সিনিয়ে সেকশনের বিপরীতে) এখনও অনেকের স্মৃতিতে আছে, এই তরুণ আড্ডার অন্যতম ঠিকানা। দুর্গাবাড়িকে একটু উঁচু ক্লাসের স্কুলপড়ুয়া এবং কলেজ পড়ুয়াদের ভিড়ের জায়গা। এবং এই কলবয়েসীদের প্রেমের করার জায়গায় বটে।
দুর্গাবাড়ির বরাবরই সাউথ পয়েন্ট ও পাঠ ভবনের এর পড়ুয়াদের ভিড় —স্কুল ছুটির পর পুজোর ক’দিন যেন সোজা গন্তব্য দুর্গাবাড়ি। কারও হাতে ঠাকুর দেখার তালিকা, কারও হাতে ফোন, আর কারও মাথায় শুধু একটি প্রশ্ন—“আজ কে আসছে?” বাকি ইতিহাস!
তারপর আসা যাক রিচি রোডের ম্যাডক্স স্কোয়ার দূর্গা পুজোয়। ম্যাডক্স মানেই শুধু পুজো নয়, আড্ডা। পুজোর সময় ম্যাডক্সের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, সারা রাত বসে গল্প করা এবং হারিয়ে যাওয়া পরিচিতদের হঠাৎ খুঁজে পাওয়ার সংস্কৃতি। এমনকী এক সময় ম্যাডক্সের আড্ডা নিয়ে বলা হত—পুজোর রাতে এখানে গেলে পরিচিত কাউকে না কাউকে দেখা যাবেই!
তাই বাঙালির পুজোর প্রেমের সংজ্ঞা বেশ সহজ—মা দুগ্গার দর্শন তো হবেই, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা হবে, আর যদি ভাগ্য ভালো হয়, ‘সেই মানুষটার’ সঙ্গেও দেখা হয়ে যাবে। প্রেমের দেবতা আলাদা করে আসার দরকার কী? মা দুর্গাই তো সব ব্যবস্থা করে দেন!