প্রকৃতির একই জাদু

সুবীর সেন
একদিন এক ছোট্ট মেয়ে রাতের আকাশে চাঁদ দেখে জিজ্ঞেস করল,
“দাদু, এত বড় আকাশ কীভাবে তৈরি হলো?”
দাদু হাসলেন আর বললেন,
“শোনো, একটা মজার গল্প বলি। প্রকৃতি খুব চালাক। সে একই জাদু দুই জায়গায় ব্যবহার করেছে—তোমার শরীরের ভিতরে আর পুরো আকাশজুড়ে।”
তোমার শরীরের ভিতরের জাদু
তোমার শরীরে ডিএনএ নামে একটা ছোট্ট সিঁড়ি আছে। সেই সিঁড়ির ভিতরে প্রোটন নামে ক্ষুদ্র কণাগুলো খেলা করে। কখনো কখনো তারা দেয়াল ভেদ করে চলে যায়—যেন দেয়ালটা নেই! একে বলে কোয়ান্টাম টানেলিং।
এই খেলার ফলে সিঁড়িতে ছোট্ট একটা ভুল হয়। সেই ভুলটাই পরে নতুন রঙের চোখ বা নতুন গলার আওয়াজ বানিয়ে দেয়। জীবন এভাবেই বদলায়।
আকাশের জাদু
অনেক অনেক আগে মহাবিশ্ব যখন খুব ছোট ছিল, তখনও একই জাদু হয়েছিল। ক্ষুদ্র একটা কাঁপুনি জন্ম নিল—যেন পানিতে ছোট্ট ঢেউ। সেই ঢেউ ধীরে ধীরে ফুলে উঠে আজকের তারা, গ্রহ আর ছায়াপথ হয়ে গেল।
তোমার চোখের সামনে যে তারাগুলো জ্বলছে, সেগুলো আসলে সেই প্রাচীন ছোট্ট কাঁপুনির বড় রূপ।
দাদু বললেন,
“দেখো, দুই জায়গাতেই একই খেলা—
ছোট্ট অনিশ্চয়তা থেকেই বড় পরিবর্তন জন্মায়।
তোমার শরীরে সেটা মিউটেশন , আকাশে সেটা ছায়াপথ ।
প্রকৃতি যেন একই বই দুইবার লিখেছে—একবার খুব ছোট অক্ষরে, আরেকবার আকাশজুড়ে বড় অক্ষরে।”
মেয়েটি চোখ বড় করে তাকাল আকাশের দিকে।
তার মনে হলো, সে নিজেও সেই বইয়ের একটা ছোট্ট অক্ষর।