টালা বারোয়ারির থিম: ‘দেবীর সহস্র রূপের উপাখ্যান’

সৌম্যা ঘোষ
টালা বারোয়ারির এবারের থিম— ‘দেবীর সহস্র রূপের উপাখ্যান’। পুরাণ, বেদ, উপনিষদে বর্ণিত দেবীর নানা রূপ ও আখ্যানকে কেন্দ্র করেই এ বারের আয়োজন। মণ্ডপে রয়েছে পাঁচশোরও বেশি প্রতিমা।
বাংলার দুর্গাপুজোয় মহিষাসুর থেকে রাবণ- অশুভের বিনাশে বারবারই আহ্বান করা হয়েছে আদ্যাশক্তিকে। সেই ভাবনা থেকেই এবার শুধু দুর্গাপুজোর মণ্ডপই নয়, ‘বারোয়ারির দুর্গাবাড়ি’কে আদ্যাশক্তির মহাপীঠ, সাধনাস্থল ও বাসগৃহ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা আয়োজকদের।
আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন পুরাণে বিভিন্ন দেবতাকেই ‘আদি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, বিষ্ণুপুরাণে বিষ্ণু, ব্রহ্ম পুরাণে ব্রহ্মা, শিব পুরাণে শিব। আবার দেবী ভাগবত পুরাণে দেবী শক্তিকেই আদিশক্তি বলা হয়েছে। সেই ব্যাখ্যায় দেবীর থেকেই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সৃষ্টি। মহিষাসুর বধের ক্ষেত্রেও দেবতাদের দেবীর শরণাপন্ন হতে হয়েছিল।
তবে দেবীর কোনও একটি নির্দিষ্ট রূপ নেই। কখনও তিনি দশমহাবিদ্যার বিভিন্ন রূপে, কখনও নবদুর্গা হিসেবে পূজিতা। আবার আদিশক্তির তিন প্রধান প্রকাশ হিসেবে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর কথাও বলা হয়। তন্ত্রসাধনাতেও দেবীর নানা রূপের উল্লেখ রয়েছে।
তাই, ‘দুর্গা-র আসল রূপ কোনটি’এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর খুঁজতে যায়নি টালা বারোয়ারি। বরং মহিষাসুরমর্দিনী, দশমহাবিদ্যা, নবদুর্গা, সতীপীঠের বিভিন্ন রূপ ও দেবীর নানা আখ্যানকেই একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, কোনটি দেবীর ‘আসল’ রূপ, সেই বিতর্কের বদলে দর্শকের সামনে দেবীভাবনার বহুমাত্রিকতাই তুলে ধরা আদত উদ্দেশ্য তাঁদের।
ছবি: অনুপম ব্যানার্জী