বসন্তের নরম রোদে মোড়া শহর। সেই শহরেরই এক নির্জন কোণে হঠাৎ খুলে গেল কল্পনার দরজা। দ্বিতীয় বছরে পা রাখল ‘কমিক-কন’ কলকাতা। এ বছর যেন আরও পরিণত, আরও বহুরঙা কমিক্সের এই বিচিত্র ফেস্টিভ্যাল। আর তাকে ঘিরেই গত বারের মত এবারেও পুরোনো স্মৃতি ও নতুন কল্পনার মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠল নিউ টিউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশান সেন্টার।
কমিক-কনে সকাল সকাল হাজির হতেই দেখা গেল, কেউ খুঁজছেন শৈশবের হারানো পাতা, কেউ বা নতুন গল্পের গন্ধে মুগ্ধ। ‘ডিসি আর মার্ভেলের’ ঝলকানির পাশেই জায়গা করে নিয়েছে জাপানি ‘মাঙ্গা’র সূক্ষ্ম রেখা। আবার কোথাও স্টলে রাখা আছে ইন্দ্রজালের পুরনো দিনগুলো। যেন সময় নিজেই থমকে দাঁড়িয়েছে পুরনো আর নতুনের হাত ধরে।
দেয়ালে দেয়ালে আঁকা ছবি, টেবিল জুড়ে পোস্টার, স্টিকার, ছোট ছোট শিল্পকর্মর প্রতিটিই যেন কোনও না কোনও গল্পের দরজা খুলে দেয়। শিশুদের বিস্ময়ভরা চোখ, তরুণদের উচ্ছ্বাস, আর প্রৌঢ়দের নস্ট্যালজিয়া, সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ।
বিকেলের আলো একটু নরম হলেই শুরু হয় অন্য এক জাদু – কসপ্লে। বাস্তবের মানুষগুলো ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রিয় চরিত্রে। মঞ্চে তাদের চলাফেরা, অঙ্গভঙ্গি সবকিছু মিলে যেন কল্পনা আর বাস্তবের সীমানা মুছে যায়। দর্শকরাও তাতে ডুবে যান, হাততালিতে ভরে ওঠে চারপাশ।
ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে চোখে পড়ে কত কিছু। পুরোনো কমিক্সের গন্ধ, নতুন গ্রাফিক নভেলের টান, কার্ড, মুখোশ, পুতুল, এমনকি রোজকার ব্যবহারের জিনিসেও লেগে আছে সেই কমিক্সের ছোঁয়া।
সদ্যই শেষ হল অভিনব এই মেলা। কিন্তু তার রেশ থেকে গেল স্মৃতির কোণে। এত গল্প, এত চরিত্র, এত স্বপ্ন মিলে এই কয়েকটা দিন যেন শহরকে একটু অন্যরকম করে তুলল। আগামী বছরের কমিকনের জন্য অপেক্ষায় থেকে গেল আবারও আপামর কমিক্স প্রিয় জনতা।




No Comment! Be the first one.