TramLine
  • Homepage
  • Categories
    • Features
    • Videos
    • Shorts
  • About
  • Contact Us
TramLine
ফ্রান্সিস হ্যালজেন: ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী এবং ‘ভুতুড়ে কণা’ নিউট্রিনোর শিকারী
October 26, 2026
ঝাপসা চোখে দেখা, সেই শহর
October 24, 2026
বিডন স্ট্রিটের দত্ত বাড়ি: শিবের কোলে দুর্গা, জামাইরূপে পূজিত মহাদেব
October 15, 2026
আন কার্সন : প্রাচীন ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর
October 15, 2026
TramLine
  • Homepage
  • Categories
    • Features
    • Videos
    • Shorts
  • About
  • Contact Us
Featuresআজকে এখুনই...

গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আমার স্মরণ

দেবর্ষি বন্দোপাধ্যায়
দেবর্ষি বন্দোপাধ্যায়
June 1, 2026 7 Mins Read
285 Views
0 Comments

১

বিগত দশকগুলির মধ্যে সত্তর দশক সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিল। রাজনীতি থেকে সংস্কৃতি সমস্ত দিক থেকেই একটা দশক আন্তর্জাতিক তথা আধুনিক হতে চেয়ছিল। আর, এ দশকের যে ক জন ব্যক্তিত্ব নিজের জীবন ও কাজে ধারণ করেছিলেন এই সময়ের গর্জন গৌতম চট্টোপাধ্যায় ছিলেন তাঁদের অন্যতম। নব্বই দশক ও তার পরের বাংলা গানে সময়ের থাবা নিয়ে দ্বিতীয় এই কিস্তিতে গৌতম ও তাঁর ব্যন্ড মহীনের ঘোড়াগুলি তাই অনিবার্য নাম।

গৌতম চট্টোপাধ্যায় মহীনের ঘোড়াগুলির ছদ্মবেশে চেয়েছিলেন এ শহরের ছোটছোট চৌকোচ্যাপ্টা সাদাসাদা দেওয়ালগুলো ভাঙতে। মিশে যেতে ও মিশিয়ে দিতে ভয়ানক সংক্রমণের মত ভালোবাসা। সদর দপ্তরে এক রকম কামানই দেগেছিলেন তিনি বন্ধুত্ব দিয়ে, দল পাকিয়ে, বসন্তের মাতাল সমীরণে। যা রাজনীতিতে পারেননি, তাই শিল্পে খুঁজছিলেন গৌতম। বড় শিল্পীরা আসলে এভাবেই একটা ঘোর তৈরি করেন, তৈরি করেন একটা স্কেপ, যা স্পর্শ করলেই আপনি আর আপনি থাকেন না। বদলে যান। গৌতমের জীবনও আসলে তেমন এক নোটেশান, যা বেজে উঠলেই বেজে ওঠে সেই সময় সেই শহর যা ম্যাজিক রিয়েল, যা আন্তর্জাতিক বলেই স্থানীয়, ভীষণ ইতিহাসসচেতন বলেই বাউণ্ডুলে, নিয়ম ভাঙবেন বলেই নিয়মটা রক্তমজ্জায় ঢুকিয়ে ফেলেছেন হাজার হাজার বছর আগে, যখন ঘোড়ার ফসিল পাওয়া গিয়েছিল আলতামিরায়..

আশির দশকে যেমন পাড়ায় পাড়ায় থিয়েটার করত ছেলেমেয়েরা, নব্বই তেমনি পেল ব্যন্ড, যা মহীনের ঘোড়ারা আগেই শুরু করেছিলেন, পিঙ্ক ফ্লয়েডের মতোই শহুরে সভ্যতার সাইকেডেলিক অভিজ্ঞতার গল্প, নৈরাশ্য ও অর্থহীনতার গল্প সেই বিকল্প রক সাউন্ড ক্রমশই ছড়িয়ে পড়ছিল গলিগলতায়। নবারুণ একবার লিখেছিলেন, রেবেলদের ভাগ্য এরকমই। তাঁর মতে, ঋত্বিকের পর সবচেয়ে মননশীল ও জটিল চলচ্চিত্রের নাম ‘সময়’ যা গৌতমের পরিচালনা। গৌতমের কলকাতায় কমলকুমার থেকে বারীন সাহা, ধরণী ঘোষ, দীপক মজুমদার ছিল রোজনামচা। মৃণাল সেন বা সত্যজিৎ সে কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে বই পড়তেন। আবার কান, বার্লিন গিয়ে পুরস্কার নিয়েও আসতেন। আর, পার্ক স্ট্রিটে মধ্যরাতে বোতল ভাঙতেন গৌতমরা। সেখানে ট্রিঙ্কাস, ব্লু ফক্সে প্রতি সন্ধায় বিলেতি সুর ভেসে বেড়াত। ভাসতে ভাসত গৌতম, বুলা, তাপসরাও চলে যেতেন সদর স্ট্রিটের বেস গিটারের ডেরা থেকে চিত্রবাণী ঘুরে কেঁদুলির বাউল আখড়ায়। প্রবীণ কৃত্তিবাসী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তারপর বলতেন, আমাদের গানের সংকলনটা শুনুন সুনীলদা..রাসবেহারী মোড়ের সুতৃপ্তি কাফেতে বসে তারপর গান বাঁধতেন তাঁরা, কাঁপে কাঁপে আমার প্রিয়া কাফে..সে গানে ধরা পড়ত সন্দীপনের সদর স্ট্রিটও..

নাকতলায় থাকতেন গৌতম। সেই নাকতলাকে আমরা ডাকতাম ‘মেটাল পল্লি’নামে। মহীনের ‘সম্পাদিত বাংলা গান’ শব্দবন্ধটা আমাকে কৈশোরে খুব ভাবাত। যেমন ঋত্বিক ঘটক ‘প্রণীত’ চলচ্চিত্র লেখা থাকত টাইটেল কার্ডে। সাহিত্যের সাথে সরাসরি সম্পর্কের কথাই মনে করায় এই প্রয়োগ। মনে করায়, তাঁদের ‘মেরুন সন্ধ্যালোক’এ কি ভীষণ জীবনানন্দ বা ‘অঘ্রাণের অভূতিমালায়’ কি ভীষণ বিনয় মজুমদার! মনে করায়, গৌতম সক্রিয় রাজনীতি করতেন। নকশাল আন্দোলনে যোগ দিয়ে জেলে যান, অত্যাচারিত হন। ভিনরাজ্যে অন্য পেশা নিয়ে থাকতে বাধ্য হন দীর্ঘদিন। কত ভাবে ফ্রেম ভাঙতে চেয়েছিলেন আদ্যন্ত আন্তর্জাতিক এই মানুষটি! গান যে আসলে তানসেনের কোলে বসে না বরং আর পাঁচটা শিল্পক্রিয়ার মতই স্বাভাবিক উচ্চারণ, বংশকৌলীন্যর বদলে তাই রকস্টার হওয়া বেশি সম্মানের মনে করেছিলেন গৌতম। আধুনিক, আধুনিক এবং আধুনিক-এই প্রজন্ম আর তাঁদের কলকাতার কথা মনে পড়লে আমার এটাই মনে হয়। অঞ্জন দত্ত গৌতমকে নিয়ে লেখা গানে লিখেছিলেন, ‘তাঁকে পোষ মানানো যায়নি, যায়নি শেখাতে এই কলকাতা শহরে বেঁচে থাকার হিসেব..’

সময়টার কথা বলতে গিয়ে দিন কয়েক আগে চিত্রপরিচালক শেখর দাশ বলছিলেন, আমার পরিচলানায় বিসর্জন অভিনীত হচ্ছে সে সময়। দীপকদা রঘুপতি করছেন, আমি জয়সিংহ করছি। সুনেত্রা ঘটকও অভিনয় করেছিলেন। হাবিব তনভীরের সাথে পাঁচের দশকে কাজ করেছিলেন দীপকদা। আমায়, হিরণদাকে আর গৌতমকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। ওঁর মত ব্যক্তিত্ব সত্যিই বিরল। অনেক গড়িমসির পর রাজি হলেন কাজ করতে নাটকে। সেসূত্রেই হিরণদার সাথে পরিচয়। গৌতম মিউজিক করেছিল। আমরা সেই নাটকের রিহার্সাল করতাম সদর স্ট্রিটের গির্জার উঠোনে। সেখানে আবার সন্দীপনদা (চট্টোপাধ্যায়) আসতেন। এই সময়েরই আরেক অনিবার্য ভাষ্যকার তথা লেখক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। দেশপ্রিয় পার্কের লা কাফে বা রাসবিহারীর অমৃতায়নে আড্ডা জমাতেন অনন্য রায়, নবারুণের সাথে তিনিও। অদূরেই হয়তো দাঁড়ানো গৌতম ও তাঁর দলবল। বাড়ি ফেরার পথে সকলেই দেখতেন, চন্দ্রকুমার স্টোর্সের সামনে ফুটপাতে শুয়ে আছেন আকন্ঠ মদ্যপানে আসক্ত দেবদূত ঋত্বিককুমার ঘটক।

ঋত্বিকের পরম্পরাতেই গৌতমকেও সুকৌশলে মিথ বানানো গেল। আজ কলকাতা বড়লোকের। প্রিভিলেজড মধ্যবিত্তের। তাঁদের এসব অলীক আর রূপকথা মনে হয়। মনে হয় সানকিসড নস্টালজিয়া। তাই কাফের নাম হয় সত্তরের বিপ্লবের নামে। চায়ের দোকান উঠিয়ে গজিয়ে ওঠে দগেদগে স্পা। বন্দুকের মুখে উঠে যায় শপিংমল। তবু তো ঘোর থেকে যায়। তবু আজও যখন ‘রাত্রেবেলা সবাই যখন ঘুমে অচেতন’ শুনি, আমার প্রেমিকার মধ্যবিত্ত পাড়াটা মনে পড়ে যা একমাত্র ধরা রয়েছে মৃণাল সেনের কলকাতা-৭১ এ। সে কলকাতাও আজ বিগত। সরু গলি দিয়ে ছুটে যায় না আর কোনও নকশাল, মৌলালি মোড়ে থিয়েটার করেন না বাদল সরকারও, কোনও বোকারা আর স্বপ্নও দেখে না খোলাবাজারের হাওয়ায় দুনিয়াটা বদলানোর, আমার তবু গানমালার ‘বিন্তু’ কে মনে পড়ে, মনে পড়ে বিনীতা কেমন আছে? মহৎ প্রেমিকরা কি আজও ন্যাকা সাজে? মাঘের অন্তরঙ্গ দুপুরে কেওকার্পিনের গন্ধমাখা দক্ষিণ খোলা জানলা মনে পড়ে, মনে পড়ে গানটির মাঝে বেজে ওঠা অসামান্য ফিউশান, ফুটপাথ ঘেঁষা বেলুনগাড়ির দাউদাউ ইমেজ, টেলিফোন গানের মাঝে বেজে চলা অসামান্য ডিসটরশন গিটার, প্রিয়া কাফে-র জ্যাজ-জীবনানন্দ-পিকাসো-বুনুয়েল-দান্তে-বিটলস-ডিলান আর বেঠোফেন বেজে চলে আমার নাগরিক পথ হাঁটায়, আমার একলা পথ হাঁটায়, আমার ভেঙেচুরে দিতে চাওয়া বাসনায় ও মধ্যবিত্ত আপোষে..রক্তচলাচলে..স্নায়ুবিনিময়ে..

শহুরে গল্প ডালপালা মেলছিল এভাবেই, শহর ও আধুনিকতাকে ঘিরে চালচিত্র বেড়ে উঠছিল, সেখানে গ্রাম্যতা ছিল না, ছিল স্মার্টনেস, কান্ট্রি ও প্রগ্রেসিভ রকে গল্প বলছিল যৌবন, বলছিল আশা-হতাশা, পারা-না পারা। আমরা সে অর্থে বাংলা ব্যন্ড প্রজন্ম। বছর কুড়ি পরে ফিরে এসে মহীনের ঘোড়ারা আবার বিশ্বাস করাচ্ছিলেন সময়ের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন তাঁরা। বিশ্বাস করছিলাম আমরাও পারব আমাদের গল্প বলতে একদিন ঠিক। গলিতে গলিতে গজাচ্ছিল ব্যণ্ডের দল তারপর। আমরা বিশ্বাস করছিলাম গানে বা সিনেমাতে একদিন ঠিক আমাদের গল্প বলে ফেলতে পারব আমরা..কলকাতা শাসন করবে আবার যৌবন..আমরা, নিশ্চয়ই পারব..

২

বাংলা ব্যন্ড নিয়ে দু’দিন আগেই একটা পোস্ট করলাম। তা প্রচুর শেয়ারও হল, এক তরুণ লিখলেন, আমাদের এই রিগ্রেসিভ সমাজটাকে বদলাতে দরকার প্রগ্রেসিভ চেতনা যা একমাত্র রক মিউজিক দিতে পারত। গতকাল কথা হচ্ছিল আমার দীর্ঘদিনের আরেক প্রবাসী পাঠকের সাথে, তিনি জানালেন, অনেকদিন পর বাংলায় একটা তরুণ ইন্টেলেকচুয়াল সমাজ তৈরি হচ্ছে জেনে সত্যিই আনন্দ হয় তাঁর। এ দুটো কথাই আজ, গৌতম চট্টোপাধ্যায়র জন্মদিনে ভাবতে ভাবতে, লিখব-না ঠিক করেও, মনে হল দু একটা কথা লিখেই ফেলি। কারণ, পপুলার ‘মহীন’ এর আড়ালে আজ প্রায় ঢাকা পড়ে গেছে একজন রেনেসাঁস ব্যক্তিত্ব, গৌতম। আর আমার সেখানেই ফোকাস..

নবারুণ একবার লিখেছিলেন, রেবেলদের ভাগ্য এরকমই। তাঁর মতে, ঋত্বিকের পর সবচেয়ে মননশীল ও জটিল চলচ্চিত্রের নাম ‘সময়’ যা গৌতমের পরিচালনা। গৌতমের কলকাতায় কমলকুমার থেকে দীপক মজুমদার ছিল রোজনামচা। গৌতমকে বুঝতে বারীন সাহার সাথে তাঁর সাক্ষাৎকার পড়ুন, পড়ুন দীপকের ‘কিনোখ্যাপা ঋত্বিক আমাদের গুরু’, ‘কলকাতা থেকে কনস্টান্টিনোপল’। মৃণাল সেন বা সত্যজিৎ সে কলকাতায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে বই পড়তেন। আবার কান, বার্লিন গিয়ে পুরস্কার নিয়েও আসতেন। আবার সত্যজিৎ কিছুটা বক্রোক্তিতেও জানাতেন, কেন নাগমতী (গৌতমের ছবি) এডিটের আগে তাঁকে ডাকা হল না! এখন প্রিমিয়ারে তিনি কি করতে যাবেন..আর, পার্ক স্ট্রিটে মধ্যরাতে বোতল ভাঙতেন গৌতমরা..প্রবীণ কৃত্তিবাসী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তারপর বলতেন, আমাদের গানের সংকলনটা শুনুন সুনীলদা..রাসবেহারী মোড়ের সুতৃপ্তি কাফেতে বসে তারপর গান বাঁধতেন তাঁরা, কাঁপে কাঁপে আমার প্রিয়া কাফে..সে গানে ধরা পড়ত সন্দীপনের সদর স্ট্রিটও।

নাকতলায় থাকতেন গৌতম। সেই নাকতলাকে আমরা ডাকতাম ‘মেটাল পল্লি’নামে। মহীনের ‘সম্পাদিত বাংলা গান’ শব্দবন্ধটা আমাকে কৈশোরে খুব ভাবাত। যেমন ঋত্বিক ঘটক ‘প্রণীত’ চলচ্চিত্র লেখা থাকত টাইটেল কার্ডে। সাহিত্যের সাথে সরাসরি সম্পর্কের কথাই মনে করায় এই প্রয়োগ। মনে করায়, তাঁদের ‘মেরুন সন্ধ্যালোক’এ কি ভীষণ জীবনানন্দ বা ‘অঘ্রাণের অভূতিমালায়’ কি ভীষণ বিনয় মজুমদার! মনে করায়, গৌতম সক্রিয় রাজনীতি করতেন। নকশাল আন্দোলনে যোগ দিয়ে জেলে যান, অত্যাচারিত হন। ভিনরাজ্যে অন্য পেশা নিয়ে থাকতে বাধ্য হন দীর্ঘদিন। এ কথাগুলো আজ বলা দরকার, না-হলে বোঝা যাবে না কত ভাবে ফ্রেম ভাঙতে চেয়েছিলেন আদ্যন্ত আন্তর্জাতিক এই মানুষটি। গান যে আসলে তানসেনের কোলে বসে না বরং আর পাঁচটা শিল্পক্রিয়ার মতই স্বাভাবিক উচ্চারণ, বংশকৌলীন্যর বদলে তাই রকস্টার হওয়া বেশি সম্মানের মনে করেছিলেন গৌতম। আধুনিক, আধুনিক এবং আধুনিক-এই প্রজন্ম আর তাঁদের কলকাতার কথা মনে পড়লে আমার এটাই মনে হয়। অঞ্জন দত্ত গৌতমকে নিয়ে লেখা গানে লিখেছিলেন, ‘তাঁকে পোষ মানানো যায়নি, যায়নি শেখাতে/ এই কলকাতা শহরে বেঁচে থাকার হিসেব..’

কিন্তু গৌতমকে সুকৌশলে মিথ বানানো গেলে। তাতে বেওসা ভালোই হয়েছে। তবু আজও যখন ‘রাত্রেবেলা সবাই যখন ঘুমে অচেতন’ শুনি, আমার প্রেমিকার মধ্যবিত্ত পাড়াটা মনে পড়ে যা একমাত্র ধরা রয়েছে মৃণাল সেনের কলকাতা-৭১ এ। সে কলকাতাও আজ বিগত। সরু গলি দিয়ে ছুটে যায় না আর কোনও নকশাল, মৌলালি মোড়ে থিয়েটার করেন না বাদল সরকারও, কোনও বোকারা আর স্বপ্নও দেখে না খোলাবাজারের হাওয়ায় দুনিয়াটা বদলানোর, আমার তবু গানমালার ‘বিন্তু’ কে মনে পড়ে, মনে পড়ে বিনীতা কেমন আছে? মাঘের অন্তরঙ্গ দুপুরে কেওকার্পিনের গন্ধমাখা দক্ষিণ খোলা জানলা মনে পড়ে, মনে পড়ে গানটির মাঝে বেজে ওঠা অসামান্য ফিউশান, ফুটপাথ ঘেঁষা বেলুনগাড়ির দাউদাউ ইমেজ, টেলিফোন গানের মাঝে বেজে চলা অসামান্য ডিসটরশন গিটার, প্রিয়া কাঁফে-র জ্যাজ-জীবনানন্দ-পিকাসো-বুনুয়েল-দান্তে-বিটলস-ডিলান আর বেঠোফেন বেজে চলে আমার নাগরিক পথ হাঁটায়, আমার একলা পথ হাঁটায়, আমার ভেঙেচুরে দিতে চাওয়া বাসনায় ও মধ্যবিত্ত আপোষে..রক্তচলাচলে..স্নায়ুবিনিময়ে..

গৌতম চেয়েছিলেন এ শহরের ছোটছোট চৌকোচ্যাপ্টা সাদাসাদা দেওয়ালগুলো ভাঙতে। মিশে যেতে ও মিশিয়ে দিতে ভয়ানক সংক্রমণের মত ভালোবাসা। সদর দপ্তরে এক রকম কামানই দেগেছিলেন তিনি বন্ধুত্ব দিয়ে, দল পাকিয়ে, বসন্তের মাতাল সমীরণে। যা রাজনীতিতে পারেননি, তাই শিল্পে খুঁজছিলেন গৌতম। বড় শিল্পীরা আসলে এভাবেই একটা ঘোর তৈরি করেন, তৈরি করেন একটা স্কেপ, যা স্পর্শ করলেই আপনি আর আপনি থাকেন না। বদলে যান। গৌতমের জীবনও আসলে তেমন এক নোটেশান, যা বেজে উঠলেই বেজে ওঠে সেই সময় সেই শহর যা ম্যাজিক রিয়েল, যা আন্তর্জাতিক বলেই স্থানীয়, ভীষণ ইতিহাসসচেতন বলেই বাউণ্ডুলে, নিয়ম ভাঙবেন বলেই নিয়মটা রক্তমজ্জায় ঢুকিয়ে ফেলেছেন হাজার হাজার বছর আগে, যখন ঘোড়ার ফসিল পাওয়া গিয়েছিল আলতামিরায়..

দেবর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়

নীচের ছবিটি এঁকেছেন হিরণ মিত্র। মহীনের সম্ভবত শেষ প্রবীণ জীবিত কিংবদন্তী ঘোড়া। কিছু জানার থাকলে এ বিষয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগ করুন। এখনও তিনি এ শহরে নিত্য ছবিযাপন চালান এ আমাদের ভাগ্য..। এ ছাড়াও সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়র কাছে এ লেখার জন্য ঋণ থাকল

অন্য ছবিটি অশোক বিশ্বনাথনের ছবি ‘কিছু সংলাপ কিছু প্রলাপ’ র মুহূর্ত..

(লেখাটি বাংলালাইভে প্রকাশিত)

ছবি সৌজন্যঃ তুষারকান্তি দত্ত, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, অশোক বিশ্বনাথনের ছবি ‘কিছু সংলাপ কিছু প্রলাপ’

গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি এঁকেছেন হিরণ মিত্র। মহীনের সম্ভবত শেষ প্রবীণ জীবিত কিংবদন্তী ঘোড়া। কিছু জানার থাকলে এ বিষয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগ করুন। এখনও তিনি এ শহরে নিত্য ছবিযাপন চালান এ আমাদের ভাগ্য..।
এ ছাড়াও সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়র কাছে এ লেখার লেখার জন্য ঋণ থাকল।

Other Articles

Previous

ষোলোর প্রশ্ন: সত্তর দশকের কবি শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়র কাব্যগ্রন্থ পুনরাবিষ্কার

Next

ফ্রেম ভাঙা বিদ্রোহ: গ্রাফিক নভেল ও প্রতিবাদের নতুন ভাষা

Next
June 1, 2026

ফ্রেম ভাঙা বিদ্রোহ: গ্রাফিক নভেল ও প্রতিবাদের নতুন ভাষা

Previous
June 1, 2026

ষোলোর প্রশ্ন: সত্তর দশকের কবি শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়র কাব্যগ্রন্থ পুনরাবিষ্কার

Related Posts

সিলিকনের পরের যুগ: শ্রীতোষ গোস্বামী ও মলিকিউলার নিউরোমরফিক কম্পিউটিং-আরেক বাঙালির বিশ্বজয়

Tramline
October 26, 2026

ফ্রান্সিস হ্যালজেন: ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী এবং ‘ভুতুড়ে কণা’ নিউট্রিনোর শিকারী

Tramline
October 26, 2026

ঝাপসা চোখে দেখা, সেই শহর

Tramline
October 24, 2026

বিডন স্ট্রিটের দত্ত বাড়ি: শিবের কোলে দুর্গা, জামাইরূপে পূজিত মহাদেব

সৌম্যা ঘোষ
October 15, 2026
TramLine

© 2026 All Rights Reserved.

Quick Links

  • Homepage
  • Contact Us

Category

  • Shorts
  • Videos
  • Features

Follow Us

Facebook
Instagram
  • Homepage
  • Categories
    • Features
    • Videos
    • Shorts
  • About
  • Contact Us