মাত্র তেরো বছর বয়সেই চারটি বইয়ের লেখক সমৃদ্ধ!
সৌম্যা ঘোষ

জেন জি, জেন আলফারা কি বই পড়ে? এককথায় আপনার উত্তর হবে হয়তো ‘না’। কিন্তু, জেন আলফাদেরই একজন, সমৃদ্ধ চট্টোপাধ্যায় মাত্র তেরো বছর বয়সেই চারটে বইয়ের লেখক সে। পঞ্চম বইয়ের কাজও।
নতুন প্রজন্মরা বই বিমুখ— এই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করেছে মাত্র তেরো বছরের এই খুদে লেখক সমৃদ্ধ চট্টোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর চারটি বই, পঞ্চম বইয়ের কাজও চলছে।

ডিজিটাল অ্যাডিকশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বই পড়া নিয়ে নতুন-নতুন সম্ভাবনার পথে জেন-আলফার একাংশ।কিন্তু, বই থেকেই সমৃদ্ধ চিনে নিয়েছে নন্টে-ফন্টে, বাঁটুল দি গ্রেটকে। বই পড়ার পাশাপাশি লেখালেখির ঝোঁকও ছিল তার সমান তালে। ২০২২-এ মা বাবার সঙ্গে তার জাপান যাত্রা। সেখানেই অ্যান ফ্রাঙ্কের ডায়েরির কথা জানা। আর তারপরেই জাপানের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার নিরিখে নিজের লেখা ডায়েরি থেকে বই প্রকাশের কল্পনা।

অনেকেই আজ অডিওবুক বা ডিজিটাল মাধ্যমে বই পড়ছে। তার মতে, মাধ্যম পরিবর্তিত হলেও, পড়ার অভ্যাসটাই আসল। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি তারও ঝোঁক কিছু কম নয়। তবে তার কাছে গল্পের বই পড়ার আনন্দের বিকল্প কিছু নেই। লক ডাউনের সময়ও থেমে ছিল না সমৃদ্ধ। তখনই পাওয়ার পয়েন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করে সে। শুধু তাই নয়, নিজের এই সব অভিজ্ঞতা তথা বই পড়ার ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন স্কুলে বক্তব্য রাখে সমৃদ্ধ।

মাত্র তেরো বছর বয়সেই ‘ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডস’ এবং ‘এশিয়া বুক অব রেকর্ডস’এ স্বীকৃতি জুটেছে তার। সে জানিয়েছে, তার বই ‘হোয়াট লাইফ হ্যাজ তট’ (‘What Life Has Taught’) পুরোটাই জীবনের পাঠ।
অভিজ্ঞতা জড়ো করা, বই পড়া, লেখালেখি, বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়… এসব কিছুর মধ্যে সমৃদ্ধ খুঁজে চলেছে জীবনের ইতিবাচকতা। সে দেখিয়েছে, প্রযুক্তির সঙ্গে বইয়ের কখনও বিরোধ থাকতে পারে না। পড়ার অভ্যাসটাই আসল।