যামিনী রায়ের ১৩৯তম জন্মদিন উপলক্ষে দিল্লী আর্ট গ্যালারি আয়োজন করল ‘বিড়াল-টিরাল-ইত্যাদি’ নামের এক অভিনব অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে যামিনী রায়ের শিল্পকে কেন্দ্র করেই নৃত্য উপস্থাপনা করলেন নৃত্যশিল্পী বিক্রম আইয়েঙ্গার। বালিগঞ্জ দুর্গাবাড়ির দালানের অস্থায়ী নাট্যমঞ্চে এই উপস্থাপনা দেখতে এ দিন হাজির ছিলেন নানা গুণী মানুষ।
বিক্রমবাবুর জানালেন, এই প্রচেষ্টা পুনর্কথন নয়, বরং এক সৃজনশীল প্রতিক্রিয়া। যামিনী রায়ের ছবির রং, রেখা আর ছন্দকে মিলিয়েই তিনি সৃষ্টি করতে চেয়েছেন এক জীবন্ত কাব্য, যেখানে তুলির আঁচড় দেহ পায় নাচের গতিময়তায়।
আর তাই এ দিন স্থির ক্যানভাসের গণ্ডি পেরিয়ে যামিনী রায়ের ছবিগুলো যেন হঠাৎই নিঃশ্বাস নিতে শুরু করেছিল। পরিচিত সেই বিড়ালের চোখে সহসা ভেসে উঠেছিল রহস্য, আর চলনে জেগে উঠেছিল ছন্দ। গ্রামবাংলার সরল মানুষ, মাতৃমূর্তি, কৃষ্ণলীলা – সবকিছুই যেন দেহের ভঙ্গিমায়, তাল-লয়ের উত্থান-পতনে এক নতুন ভাষা খুঁজে পাচ্ছিল ধীরে ধীরে। যামিনী রায়ের শিল্পে যে লোকজ ঐতিহ্যের গভীর শিকড়, সহজ অথচ দৃঢ় রেখা, আর চিরচেনা জীবনের প্রতিচ্ছবি, নৃত্যের আবর্তে তাই ঘুরে ফিরে জীবন্ত হয়ে উঠছিল ক্রমশ। যেন ছবির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা গল্প শরীরী ভাষায় ছড়িয়ে পড়ছিল দর্শকের অন্তরে।
অনুষ্ঠানের শেষে তাই বিস্মিত দর্শকরা অকপটেই জানালেন, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীর জন্মদিনে এ হেন অভিনব উপস্থাপনা দীর্ঘদিন মনে থেকে যাবে।

