সম্প্রতি পদাতিক থিয়েটারে মঞ্চস্থ হল ‘লীলার বন্ধু’। ঝালাপালা নাট্যদলের প্রযোজিত এই নাটকের পরিচালক শান্তনীল গঙ্গোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানটি দিল্লী আর্ট গ্যালারির ‘ইন্টারসেকশনস: থিয়েটার’ কর্মসূচির অন্তর্গত, যার উদ্দেশ্য অভিনয় ও দৃশ্যশিল্পের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময় ও সংলাপ সৃষ্টি করা।
আর.কে. নারায়ণের বিখ্যাত গল্প ‘লীলা’স ফ্রেণ্ড’-থেকেই গড়ে উঠেছে এই নাটক। আর.কে. নারায়ণের কল্পনার মালগুড়ি স্থানান্তরিত হয়েছে বাস্তবের গড়বেতায়। শিলাবতী নদী আর ধাদিকার জঙ্গলের পটভূমিতেই রূপায়িত হয়েছে নাটকের লীলার স্মৃতি ও কল্পনার জগৎ।
‘লীলা’ নামের সূত্র ধরেই চিত্রনাট্যে মিশে আছে লীলা মজুমদারের ‘হলদে পাখির পালক’-এর প্রভাব। লীলার শৈশবের বন্ধু ও বাড়ির পরিচারক সিদ্দাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এই গল্পে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ঝগড়ুর আজগুবি গল্প আর তাঁর দুমকার জঙ্গল। সিদ্দা ও ঝগড়ু মিলেমিশে এই চরিত্রটির মধ্যেই ব্যক্ত হয়েছে শ্রেণির অদৃশ্য সীমারেখা। এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
এই নাটক চলাকালীন অভিনেতারা নিজেরাই ছবি আঁকেন। কাহিনির সঙ্গে গড়ে ওঠে সেই ছবি এগোতে থাকে। অভিনেতাদের আঁকা ছবিগুলি আসলে লীলার অন্তর্জগতের প্রতিফলন। এই ছবিগুলি ভাঙা ভাঙা স্মৃতিরই প্রতিরূপ।
পদাতিক থিয়েটারের অন্তরঙ্গ পরিবেশে এই প্রযোজনাটি দর্শকদের গভীর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে। যেখানে অজান্তেই স্মৃতি, শিল্প ও শৈশব এক অনিবার্য সংলাপে আবদ্ধ হয়।