শাশ্বত রায়

প্রথমত, অনেক অনেক ধন্যবাদ যে একটা লেখা পাঠাতে পারছি। অনেকটা মন ভরা আনন্দের ব্যাপার!
অন্য দেশ – গান লেখা – আর স্মৃতি সমেত
এই লেখাটা লেখার কথা মাথায় আসতে – অনেকগুলো পথ মাথায় আসছে – লেখাটা কোন পথে এগোনো যায় সেটাই আর কি! তবে যে বিষয়ে লিখছি, সেই পথে আমি ভেবে এগোয়নি, আর ভেবে হয়তো এগোনো যায় না। তাই লিখি – লেখাই পথ দেখাক!
২০১৭ সালে ঘোর গ্রীষ্মে মুম্বাই থেকে পাড়ি দিলাম অকল্যান্ডে। ৪০ থেকে ৪ ডিগ্রি, নিউজিল্যান্ডে তখন প্রবল শীত। আমার বেড়ে ওঠা পড়াশোনা ইত্যাদি সব হাওড়া, কলকাতাতেই – তারপর প্রেম কাটতে আমিও কাটলাম – শহর ছাড়লাম – না শুধু সেই কারণে না, জীবিকার সন্ধানেও…
তো, পুনে, মুম্বাই প্রায় আট বছর তারপর অকল্যান্ড। পিএইচডি করতে। সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে তার উপরে গবেষণা। তবে যখন সুটকেসপত্র গুছিয়েছি – অনেকগুলো গান লেখাও যে কখন প্যাকিং হয়ে গেছে বুঝতে পারিনি।
একা শহরে ঘুরতে বেরিয়েছি সেদিন – ডাউনটাউন শব্দটাই বেশিরভাগ বিদেশি শহরে বেশ ঝলমলে একটা নাম। সেই ডাউনটাউনে কোথাও একটা বসেই মনে হচ্ছিল যদি একটা গান লিখতে পারি – ব্যাকগ্রাউন্ড বাজাচ্ছিল একটা গিটার প্রধান গান – ধীরে বয়ে যাওয়া নদীর মতো। স্কুলের বন্ধুকে ফোন – আমার ধৈর্যের খুব অভাব – চেষ্টা করছি – সৌম্যাব্রত তার স্ত্রী অরুন্ধতী – তারা সুর দিলো, কথা আমার। গান কি করে হবে সেই সব কথা পেরিয়ে, তালপাতার সেপাই এলো আমার গান লেখার “সিনেমায়” – আমার প্রথম লেখা গান পৃথিবীকে তারা শোনালো – “আমি শুধু খুঁজেছি আমায়” – গানটা আজকে ভাইরাল এর থেকেও অনেক বেশি।

আমি জানতাম না লেখার সময়, আজও জানি না কেনো এত মানুষ ভালোবাসলো গানটা। তালপাতার সেপাই যখন বাংলাদেশে স্টেজে গানটা গাইছে তাদের সাথে প্রায় ২/৩ হাজার জন গানটা মুখস্ত গাইছে – কেউ জানে না কে লিখেছে, কে সুর দিয়েছে – তবে সেই মুহূর্তে – আমরা কেউ কাউকে না জানিয়েও সবাই সবার সাথে! এই কারণেই গান বানানো আমার কাছে অজ্ঞাতেই একটু আধ্যাত্মিক। পুরোটা বোঝা যায়না, কিন্তু এটা বোঝা যায় – ব্যাপারটা – বড্ড শুদ্ধ।
এই যে একটা গান হলো আর আমি হলাম – সেই প্রথম মানুষ খাওয়া বাঘ। আর তার জীবনের এমনি এমনি ঘুরতে থাকা যাপনের হরিণ ভালো লাগছে না। জানি উদাহরণটা অনেকটাই রক্তের, কিন্তু একবার নিজের লেখা গান শুনে এতটা ভালো লেগেছিল, আর তা ছাড়তে ইচ্ছে করেনি।
আর তারপরে আস্তে আস্তে – বছর যেই এগোতে থাকলো বুঝতে পারলাম তালপাতার সেপাইদের নিজেদের একটা চলন আর দৃষ্টিকোণ আছে – তারা কীভাবে এগোতে চায়, এবং অবশ্যই থাকা উচিত – আর তারপর আমি হলাম যাযাবর।
এবার সত্যি নাটক করে লিখছি না – কিন্তু এই যাত্রায় এর পরে থেকে যা যা গান তৈরির স্মৃতি তৈরি হতে থাকলো – সবটা খুব দামী। ঋণ কি! আমি তার কিছুই শোধ করতে পারবো না বা চাইও না – একটুকু!
গান লেখার পথে দেখা হলো – গান হলো চন্দ্রবিন্দুর অনিন্দ্যদা! মেঘমানুষ গানের নাম – যখন সে কথা আবার করে ভাবি আনন্দ হয়! রূপঙ্কর বাগচী – লাইকগীতি – বোধহয় প্রথম এবং একমাত্র ফেসবুকের লাইক এর ওপর লেখা গান। তিমির বিশ্বাস – একলারা – একটা চুপচাপ মন শান্ত করে দেয়া গায়কী। সুমন রুজ, প্রাজ্ঞ, ঋষি পান্ডা বৈশালী দি, কত মানুষের সাথে পরিচয়।

শব্দ গুলোর কাছাকাছি আসা – মাইনাস one, mix, BPM, master, meter। Animation video হবে, নাকি শ্যুট হবে, অডিও, ভিডিও রিলিজ। দেশের সাথে আর একটা টান তৈরি হলো এভাবে। গানের টান।
তবে বলতেই হবে বাপু ওয়াটসাপ জিন্দাবাদ! আমার সব গানের ক্রেডিট নিয়ে নেবে! এক একটা সকাল, ধরুন ঘুম থেকে উঠেছি, মোবাইলও উঠল আমার সাথে – পিং পাং – স্ক্র্যাচ one, master wav, আমার কাছে হীরের মতো দামী – কখন শুনবো! আহা কি অমলিন আনন্দ। হেডফোন, না অফিস যেতে যেতে গাড়িতে শুনবো – এই গান আগে কেউ শোনেনি, আমি প্রথম। কেমন একটা সদ্যোজাত আনন্দ। লিখে বোঝানো – মুশকিল – শব্দ মাঝে মাঝে শামুক হয়ে যায়।
নতুন গ্রুপ বানালাম – আর্টলামো সঙ্গে শাশ্বত – আর্ট ভাবলে আপনার, আঁতলামো ভাবলেও আপনার! সার্থক সায়ন এর সাথে পরিচয় হলো – বেশ কিছু মনে রাখার মতো গান হলো, হবে, হচ্ছে – দূর থেকে মনে হয় – আমাদের একটা ব্যান্ড। গান আমার জীবনে দৈনন্দিন হলো। বাংলা পেরিয়ে English, Hindi লেখায় এগোলাম। শেখার, নতুন শব্দ চেনার তাগিদে। সেই ২০১৭ থেকে আজ ২০২৬ – সেদিন লিখছিলাম – বুঝলাম প্রায় ৩৭ টা গান প্রকাশিত আর অপ্রকাশিত মিলিয়ে। ইউটিউব চ্যানেল এর নাম বদল করে রাখলাম – Rayhousse – রায়বাড়ি আর কি!
এই নামটা ঠিক হয়েছে। আমার জীবন যেভাবে এগিয়েছে, আমি বাড়িতে খুব বেশি বছর থাকতে পারিনি। তবে এই গানের রায় বাড়িতে যেন বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারি। মৌলিক গান লোকে বেশি শোনেনা, সেই সব দুঃখ কাঁথায় গেলাম না।