লিখছেন প্রত্যূষা পান।
সপ্তর্ষি প্রকাশনের উদ্যোগে এবং রিড বেঙ্গলি বুকস্টোরের সহযোগিতায় ২৮ জুন প্রকাশিত হল হিরণ মিত্রর চিত্রণে সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’র বিশেষ সংস্করণ।
প্রকাশনা উপলক্ষে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে লেক মার্কেট সংলগ্ন রিড বেঙ্গলি বুকস্টোরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করলেন ভাষাবিদ পবিত্র সরকার। আলোচনায় অংশ নিলেন সমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন হিরণ মিত্রও।
ট্রামলাইনকে হিরণবাবু জানালেন, ‘আবোল তাবোল’-এর শতবর্ষ উপলক্ষে তিনি প্রথমে বইটি নিয়ে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লেখার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁর মতে, ‘আবোল তাবোল’ শিশুপাঠ্যই শুধু না বরং এক রাজনৈতিক দলিল, যেখানে সমকালীন সমাজ ও ক্ষমতার কাঠামোকে ব্যঙ্গের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। সেই লেখার সঙ্গে কয়েকটি ছবি যুক্ত করার ভাবনা থেকেই তাঁর চিত্রায়ণের কাজ শুরু। পরে প্রকাশকের তরফে সৌম্যেন পাল ও সপ্তর্ষি প্রকাশন তাঁকে পুরো বইটির জন্য কাজ করার উৎসাহ দেয়। তাঁর কথায়, তিনি প্রায় ২০০টি ছবি এঁকেছিলেন। সেখান থেকে বাছাই করে বর্তমান সংস্করণটি সাজানো হয়েছে।
হিরণবাবু আরও জানালেন, ‘আবোল তাবোল’-এর পাশাপাশি তিনি সুকুমার রায়ের ‘হ য ব র ল’-র জন্যও বিপুল সংখ্যক অলঙ্করণ তৈরি করেছেন। এবং অদূর ভবিষ্যতে আমরা হিরণ মিত্রর ‘হ য ব র ল’-রও নতুন সংস্করণ দেখতে চলেছি, বলাই যায়।
সপ্তর্ষি প্রকাশনের কর্ণধার সৌরভ মুখোপাধ্যায় ট্রামলাইনকে জানালেন, বছর দেড়েক আগে হিরণবাবু আচমকাই সুকুমার রায়ের ‘আবোল-তাবোল’-এর দু-তিনটি কবিতার অলঙ্করণ ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। বিষয়টি দেখার পরেই সপ্তর্ষির পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন সৌরভবাবু। তিনি মনে করেন, ‘আবোল-তাবোল’ একটি গূঢ় স্যাটায়ার-সহ একটি তীব্র রাজনৈতিক পাঠ। হিরণ মিত্রর আঁকা ছবিগুলোতেও সেই একই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে।
প্রথমে পুরো কাজটাই সাদা-কালোতে করার পরিকল্পনা থাকলেও, পরবর্তীতে একটি নতুন পরিকল্পনা যুক্ত হয়। সুকুমার রায়ের একটি বিখ্যাত লাইন ‘লাল গানে নীল সুর হাসি হাসি গন্ধ’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বইটির একটি রঙিন সংস্করণ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে লাল ও নীল রঙের খেলা এবং কালো রঙের টেক্সটের মিশ্রণ থাকবে। ফলে, বইটার পাঠক সংস্করণ ছাড়াও একটা বিশেষ সংস্করণও প্রকাশ হতে চলেছে। সংস্করণটির শেষ অংশে ‘আবোল-তাবোল ও আমি’ শিরোনামে হিরণ মিত্রর একটি দীর্ঘ লেখা থাকছে, যেখানে তিনি এই কাজটির পিছনে তাঁর চিন্তাভাবনা ও অনুভূতির কথা লিখেছেন।
সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই গ্রন্থ শতবর্ষ অতিক্রম করার পরেও বাঙালির কাছে সমান জনপ্রিয়। নতুন এই সংস্করণে হিরণ মিত্রর চিত্রায়ণ বইটিকে নতুন প্রজন্মের পাঠকের কাছে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পৌঁছে দেবে বলেই প্রকাশকদের আশা।