
দূর! বিশ্বকাপ শুরু হল কোথায়? ঠেক থেকে বাড়ি ফেরার সময় মাইতি কাকু একটু উস্কে দিয়ে গেলেন। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড-জার্মানির ম্যাচ না হলে বিশ্বকাপ শুরু হয় নাকি।
বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মেক্সিকো বনাম সাউথ আফ্রিকা এবং সাউথ কোরিয়া বনাম চেকিয়ার লড়াই ছিল একেবারেই ভিন্ন মেজাজের। কিন্তু কলকাতার এক সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালি দর্শকের কাছে এই দুটি ম্যাচই ছিল রাত এবং পরের দিন সাতসকালে। প্রথমটা দেখতে বসতে হয়েছে রুটি তরকারির ডিনার খেয়ে এবং দ্বিতীয়টা পরের দিন আর চা বিস্কুট এবং হাফটাইমে প্রাতঃকৃত্যর মধ্যে দিয়ে।
মেক্সিকো বনাম সাউথ আফ্রিকা ম্যাচে শুরু থেকেই মেক্সিকোর আক্রমণাত্মক ফুটবল নজর কাড়ে। বল দখল, দ্রুত পাস আর উইং দিয়ে ওঠানামায় তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। সাউথ আফ্রিকাও হার মানেনি; কয়েকটি পাল্টা আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর সংগঠিত খেলা ও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই পার্থক্য গড়ে দেয়। টেলিভিশনের সামনে বসে থাকা মাইতি কাকু পরে দিন সকালে দাঁত মাজতে আজকে বলেই দিলেন, এমন গোছানো ফুটবলই তো বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য। তবে মারামারিটা না করলেই পার্ট, নেলসন ম্যান্ডেলার দেশের লোক বলে কথা। দেশের মাটিতে ২-০ গোলে যেটা মেক্সিকোর ফরয়ার্ড গুলোর ওপর নজর চলে গেছে। মার্ক করে নিয়েছেন, একটু বুড়ো হলে কাকে মোগো বাগানে সই করানো যায়!

মাইতি কাকু অবশ্য সাউথ কোরিয়ার ম্যাচটা নিজের গরজেই দেখেছেন। সেবার ডার্বিতে ডু ডঙের ফাকিতে থেকে গোল দেওয়ার স্মৃতি এবং ব্যথাটা এখানে আছে বৈকি। ১০তাই চায়ের দোকানে এসে তিনি বললেন, সাউথ কোরিয়া বনাম চেকিয়া ম্যাচ ছিল অনেক বেশি কৌশলনির্ভর। সাউথ কোরিয়ার গতি ও পরিশ্রম ছিল চোখে পড়ার মতো, কিন্তু চেকিয়ার অভিজ্ঞতা ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ম্যাচটিকে কঠিন করে তোলে। মাঝমাঠে বলের দখল নিয়ে লড়াই, নিখুঁত পাস এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। সুযোগ তৈরি হলেও গোলের সামনে দুই দলই বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
মধ্যবিত্ত বাঙালির কাছে বিশ্বকাপ শুধু খেলা নয়, এক ধরনের উৎসব। অফিস ফেরত ক্লান্তি, স্কুলের হোমওয়ার্ক বা মাসের বাজেটের হিসাব—সব কিছু কিছুক্ষণের জন্য ভুলিয়ে দেয় এই ৯০ মিনিট। মেক্সিকোর ছন্দময় আক্রমণ হোক বা চেকিয়ার শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, প্রতিটি ম্যাচই নতুন গল্প বলে। আর সেই গল্প নিয়েই পরদিন চায়ের দোকান, বাসস্ট্যান্ড কিংবা পাড়ার আড্ডায় জমে ওঠে ফুটবল-তর্ক। বিশ্বকাপের আসল জাদু বোধহয় সেখানেই।